২০০ বছরের ইতিহাস ভেঙে মার্কিন মুদ্রায় বসল জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৩৬ এএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত নতুন ১ ডলারের মুদ্রা বিক্রি শুরু করেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল বা ইউএস মিন্টের মাধ্যমে সংগ্রাহকদের জন্য মুদ্রাটির রোল ও ব্যাগ বিক্রি শুরু হয়।
সোনালি রঙের কয়েনটির এক পাশে রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। এর পাশে লেখা রয়েছে ‘স্বাধীনতা’ ও ‘আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি’। অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রতীক, প্রেসিডেন্সিয়াল সিল। সেই সিলের ঢালের ওপর লেখা রয়েছে ‘২৫০’।
মার্কিন মুদ্রা বিভাগ বলেছে, কয়েনগুলো গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্ষিকীর দিকে এগিয়ে যাওয়া একটি দেশের চেতনা, গর্ব ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে।
ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম ৬১ ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি মুদ্রার অভিহিত মূল্য ১ ডলার হলেও সংগ্রাহকদের জন্য বিক্রি করা রোলে প্রতি মুদ্রার দাম পড়ছে ২ ডলার ৪৪ সেন্ট। এ ছাড়া ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিশেষ মাইলফলক উদযাপনের অংশ হিসেবে মুদ্রাটি তৈরি করা হলেও জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় ব্যবহারের বিষয়টি এরই মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় সাধারণত দেশটির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মৃত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় স্থান পেল।
নতুন মুদ্রাগুলো ফিলাডেলফিয়া টাকশালে তৈরি হয়েছে। এগুলো দেখতে স্বাভাবিক প্রচলিত মুদ্রার মতো হলেও এখনো সাধারণ বাজারে প্রচলনের জন্য ছাড়া হয়নি। তবে ইউএস মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এগুলো বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মুদ্রাটির ধাতব গঠনে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ তামা, ৬ শতাংশ দস্তা, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ এবং ২ শতাংশ নিকেল রয়েছে। ওজন ৮ দশমিক ১০ গ্রাম এবং ব্যাস ২৬ দশমিক ৪৯ মিলিমিটার।
ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় একজন ক্রেতা বা একটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি অর্ডার দিতে পারবে। এই সীমা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা পূর্বাঞ্চলীয় সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর সীমাটি তুলে নেওয়া হবে।
মুদ্রাটিকে ঘিরে বিতর্কের মূল কারণ এর নকশায় একজন জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি সাধারণ মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিশেষ ধরনের স্মারক বা বিশেষ মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদন দিতে পারেন। নতুন মুদ্রাটি সেই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় তৈরি হয়েছে।
মুদ্রাটির নকশা চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের চারুকলা কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। কমিশনের সদস্যদের ট্রাম্প নিয়োগ করেছিলেন। এর আগে ট্রাম্প নিজেই মুদ্রায় নিজের ছবি ব্যবহারের ধারণাটিকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করলেও একই সঙ্গে এ নিয়ে সম্মানিত বোধ করার কথা জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় তার নাম বা পরিচিতি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ১ ডলারের মুদ্রাটিও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে ইউএস মিন্ট মুদ্রাটিকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল উদযাপনের অংশ হিসেবেই তুলে ধরছে।
ইউএস মিন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই বিশেষ মুদ্রা আমেরিকার আড়াই শতকের ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি একই সঙ্গে সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ সংস্করণ এবং ভবিষ্যতে প্রচলিত মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
