সাংবাদিকদের সঙ্গে এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতবিনিময়
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৪৩ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাকিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেব না। নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদি হতেও দিব না। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে এবং সংসদে ভূমিকা রাখবে জামায়াত।
গত ২০ আগস্ট জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে কোয়ালিশন অফ বাংলাদেশী আমেরিকান এসোসিয়েশন (কোবা) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। ইয়র্ক বাংলা'র সম্পাদক রশীদ আহমদের উপস্থাপনায় শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত সঙ্গীত শিল্পী সালাহ উদ্দিন রাসেল।
সভায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও বিভিন্ন ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের মধ্যে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ এর সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, টাইম টিভির সিইও এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক পরিচয় সাপ্তাহিক নাজমুল আহসন, সাপ্তাহিক জন্মভুমির সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাস’র সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক আজকাল’র বিশেষ প্রতিনিধি ও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, হককথার সাম্পাদক এবিএম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আমার সিলেট-এর সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী দীপু, দৈনিক সংগ্রাম’র নিউইয়র্ক প্রতিনিধি এইচ এম আখতার হোসাইন ও ফটো সাংবাদিক জেমসসহ আরো অনেক উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকরা বাংলাদেশের রাজনীতি, জুলাই আন্দোলন, দেশের ভবিষ্যৎ এবং প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব প্রশ্নের সাবলীলভাবে উত্তর দেন এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং প্রবাসীদের ত্যাগ ও অবদানকে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দেশ গঠনে দল-মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জোবায়ের বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ ও একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার মুখে বলছে তারা অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু কাজ করছে তার ঠিক উল্টো। তারা দায়িত্ব নেয়ার পরেই জাতির সাথে তামাশা শুরু করেছে। তারা বিচার বিভাগ পৃথকিকরণ দুদক আইন, গুম কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সংস্থার তারা বাদ করে দিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা, গণভোট সহ বিপ্লব পরবর্তী জনপ্রত্যাশা নিয়ে বিএনপি কথা দিয়ে কথা রাখছে না। বরং বিএনপি ফ্যাসিবাদের কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। সর্বত্রই দলীয়করণ করে নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করছে। বিএনপি মুখে যে কথা বলছে, কাজে তা করছে না। এমতাবস্থায় জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের ভিতরে ও বাইরে আন্দালনের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
লং মার্চ এবং মহাসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে এবং সংসদে সমান ভূমিকা রাখবো। গ্যাস বিদ্যুত দির্ঘদিনের সমস্যা কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকরি কোন উদ্যোগ নেই। প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ বলতে শুরু করেছে আগেই ভালো ছিল। এতে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসার প্রক্ষাপট তৈরি করছে সরকার।
ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে তিনি বলেন, সমতার ভিত্তিতে আমরা আলোচনা চাই। তারা সীমান্তে মানুষ হত্যা করছে। প্রতিদিন মানুষ পুশিং করার চেষ্টা করছে। হাসিনা ভারতে থেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অথবা ভরত সরকার তাদের সহায়তায় করছে। তাকে ফেরত দিতে হবে। এসব বিষয় সিন্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অসম্মানজনক সফরে যাওয়া ঠিক হবে না।
এক প্রশ্নের উত্তরে জোবায়ের বলেন, শেখ হাসিনার বিচার প্রশ্নের বিএনপি-জামায়াত সহ দেশের সকল দল একমত। হাসিনা ইস্যুতে কোন বিবেধ-বিভক্তি নেই।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক শিমুর মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, গ্যাস সঙ্কট প্রভ্রতি মেজর সমস্যা নিয়ে আন্দোলন হতে পারে। কিন্তু আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই, সরকারকে বিব্রত করতে চাই না। তবে আগামী দিনে আন্দোলনের কর্মসূচী রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটে লং মার্চ কর্মসূচী ছাড়াও অক্টোবরে ঢাকায় মহাসবাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনা ও প্রশ্ন উত্তরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
