শনিবার   ২৯ আগস্ট ২০২৬   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

নিরাপরাধরাও আইস পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:০৮ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবার


 
যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের গ্রেফতার করছে আইস পুলিশ। কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের ক্রমবর্ধমানভাবে লক্ষ্যবস্তু করায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। এই গ্রীষ্মে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যায় যে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে, তার আওতায় এমন হাজার হাজার মানুষ এসেছেন যারা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। এদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন নাগরিকদের জীবনসঙ্গী, বৈধভাবে প্রবেশ করে আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়ারত ব্যক্তি এবং এমন অনেকে যাদের অস্থায়ী আইনি মর্যাদা ছিল-যা বাতিল করার জন্য প্রশাসন তৎপর হয়েছিল।

ফেডারেল সরকারের সদ্য প্রকাশিত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের অধিকাংশই দেওয়ানি অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন; কিন্তু কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনা ঘটেনি। কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস নেই এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে

অভিবাসন সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে জুন ও জুলাই মাসে। গত জুনে ৪৩ হাজার ও জুলাই মাসে ৪৯ হাজার অভিবাসীকে গেস্খফতার করেছে আইস পুলিশ। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে এবং দেশে অবৈধভাবে অবস্থানকারী যে কাউকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পদক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। প্রতিটি স্টেটেই অভিবাসন-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের হার সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি কম জনবসতিপূর্ণ মন্টানা ও ভার্মন্টেও গ্রেপ্তারের হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। তবে ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এই দুটি অঙ্গরাজ্যে বিপুল সংখ্যক অননুমোদিত অভিবাসী বসবাস করেন এবং সেখানকার নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
আরও বেশি এজেন্ট, আরও বেশি গ্রেপ্তার
আইস পুলিশ মূলত দুটি উপায়ে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়ছে বলে মনে হচ্ছে: সংস্থাটি হাজার হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে-'অফিস অফ পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট'-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে তাদের কর্মীর সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের সময় ছিল প্রায় ২১ হাজার। এছাড়া, তারা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে।

অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা প্রদানের কর্মসূচিটি আইসিই দ্রুত সম্প্রসারিত করেছে। তথ্য অনুযায়ী, '২৮৭(জি)' [২৮৭(ম)] নামে পরিচিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে আটক হওয়া মানুষের হার এখন প্রায় ১৪ শতাংশ।