শনিবার   ২৯ আগস্ট ২০২৬   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বানিজ্য যুদ্ধ শুরু

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৮ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

 

  •      নতুন বাণিজ্য ও সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা কানাডার

 
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বানিজ্য যুদ্ধ শুরু হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জবাবে শনিবার এই ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ওয়াশিংটনের নতুন শুল্কের সমপরিমাণ অর্থাৎ ডলার টু ডলার পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা। তা হার্যকর হবে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে।এই পদক্ষেপে কানাডা কোনো বাণিজ্য যুদ্ধে জড়াচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে কার্নি বলেন, "যখন আপনি আক্রান্ত হন, তখন আপনি যুদ্ধের মধ্যে থাকেন। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।" উল্লেখ্য কানাডার এই পদক্ষেপের আওতায় পড়বে ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রপ্তানি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে কয়েক দিনের তীব্র আলোচনার পরও শুক্রবার গভীর রাতে দুই দেশ কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদার ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যকার নাজুক সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে গেছে এবং 'ইউএস-মেক্সিকো-কানাডা এগ্রিমেন্ট' (টঝগঈঅ) নামে পরিচিত মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ জটিল হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্কের আওতায় ওয়াইন, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার ছিপ এবং হকি খেলার সরঞ্জামের মতো খাতগুলো পড়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এই শুল্কের ক্ষেত্রে টঝগঈঅ-এর আওতায় কানাডিয়ান পণ্যগুলোকে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি; অথচ গত ১৮ মাস ধরে এই চুক্তিটিই যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যকে শুল্কের হাত থেকে রক্ষা করে আসছিল।
কার্নি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের নতুন শুল্কের সমপরিমাণ (ডলার টু-ডলার) পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা।"

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণকারী হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বনেতার মধ্যে কার্নি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও তিনি নতুন বাণিজ্য ও সামরিক জোট গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অটোয়ার পার্লামেন্ট ভবন থেকে কার্নি জানান, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করবে; এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অতীতে কানাডার যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল, সেগুলোর ওপরও পাল্টা শুল্ক বসানো হবে। কার্নি বলেন, "তারা যেসব প্রস্তাব দিয়েছে তা আমরা মেনে নিতে পারি না এবং তারা যা চেয়েছে, আমরা তা দেব না।"কার্নি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর জন্য কানাডা আগামী সপ্তাহে সহায়তা কার্যক্রম ঘোষণা করবে এবং এই সহায়তা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার শনিবার ফক্স নিউজকে বলেছেন, কানাডার সাথে নতুন কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, "কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের জবাবে আমরা আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তাদের হাতে সবসময়ই সেরা চুক্তিটি ছিল এবং ভবিষ্যতেও আরও ভালো চুক্তি পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তা চায়নি।"
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের অন্যতম সোচ্চার বিরোধী অন্টারিও-র প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কার্নির সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।শনিবার সাংবাদিকদের ফোর্ড বলেন, "আমি খুশি যে তিনি ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি, কারণ সেটি একটি খারাপ চুক্তি ছিল। অন্টারিও-র জন্য এটি ছিল একটি খারাপ চুক্তি। অটোমোবাইল, ইস্পাত এবং উৎপাদন খাতের জন্যও এটি ছিল একটি ধ্বংসের কাবিননামা।