মন্তব্য প্রতিবেদন
ম্লান যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি : উজ্জীবিত ‘নিষিদ্ধ’
মনোয়ারুল ইসলাম
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:০৮ এএম, ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
‘নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ’ জানান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে তাদের তৎপরতা লক্ষনীয়। সেটা ব্রংকস, ব্রুকলিন কিংবা কুইন্স সর্বত্র। বলা যায়, কর্মসূচি নিয়ে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। দেশে নিষিদ্ধ হলেও অবাধ বাকস্বাধীণতার দেশে তো কোন অসুবিধা নেই। যদিও তাতে শুধুমাত্র আপা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনাকে তুষ্ট করার প্রতিযোগিতা লক্ষ্যনীয়। সব কর্মসূচিতেই আপাকে ফোনে কানেক্ট করার অদ্যম প্রতিযোগিতা থাকে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দলের এ সব কর্মসূচিতে বাহবাও দিচ্ছেন। কোথায় কিভাবে সভা সমাবেশ হচ্ছে তার খোঁজখবরও রাখছেন। যেমন ১৫ আগষ্ট নিউইয়র্কে শোক দিবসের কর্মসূচি চলাকালে শেখ হাসিনা নিজেই জানতে চান কোথায় আপনারা প্রোগ্রাম করছেন? সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আপা জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। এখানে স্টেজ/প্যান্ডেল তৈরি করে শোক দিবস পালন করছি। এ সব প্রোগ্রামগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতারা আপা আপা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। লক্ষ্যনীয় হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশে গিয়ে ব্যাংক বীমার মালিক হয়েছিলেন নিজাম চৌধুরী ও ফরাসত আলীরা। তাদের এইসব প্রোগামগুলোতে দেখা যায় না। তবে সংযোজন ঘটেছে বেশ কিছু নেতার। তারা ৫ আগষ্টের পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আলোচিত এমপি শামীম ওসমান। সভা সমাবেশে গিয়ে আবেগঘণন বক্তৃতা করছেন। করছেন শেখ হাসিনার সাথে নানা ঘটনার স্মুতিচারন। কাঁদছেন নেত্রীর জন্য । জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখছেন জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির বিরুদ্ধে। উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের। ফ্লো তোলার চেষ্টা করছেন, চল ঢাকা যাই। নেত্রী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন। সেদিন আমরাও বাংলাদেশে যাব। হাসিনার এই ঘেষণায় অবশ্য উজ্জীবিত হয়েছে বিদেশ আওয়ামী লীগ।
১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে নিউইয়র্কে আওয়ামী সর্মথক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্তদের ঢল নেমেছিল। জ্যাকসন হাইটস ছিল শোকের প্রতীক কালো পোষাকের সমারোহ। ৭৩ স্ট্রিট, ডাইভারসিটি প্লাজা, ব্রংকসের পার্কচেষ্টার কিংবা ব্রংকলিনের চার্চ ম্যাকডোল্ডস ছিল মুজিব ভক্তদের চোখে পড়ার মতো। যদিও ব্রুকলিনে আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান বিএনপির প্রতিবাদমুখি মিছিলের কারণে বিব্রত ছিলেন। নাজেহাল হবার আশংকায় সটকে পড়েছিলেন দ্রুত।
১৫ আগষ্ট বিএনপি পালন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী হিসে্েব । এদিন স্টেট বিএনপি ডাইভারসিটি প্লাজার অদুরে রুজভেল্ট এভিনিউ ঘেষে আয়োজন করেছিল দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। সন্ধ্যা অবধি সেখানে ছিল হাতেগোনা ১০ থেকে ১৫ জন নেতা কর্মি। একই সময় সামান্য অদূরে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মি ১৫ আগষ্ট পালন করছিল। যদিও সন্ধ্যার পর বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ উপস্থিত হলে ৪০/৫০ জনের উপস্থিতিতে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। ব্রুকলিনে মোস্তফা কামাল পাশা বাবুলের নেতৃত্বে বিএনপি খালেদার জন্মদিবস পালন করে। এই অনুষ্ঠান শেষেই তারা মিছিল সহকারে চার্চ ম্যাকডোনাল্ডসে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের সাথে সংঘর্ষ বাধে।
১৯ বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। আসেনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একক কমিটি। রহস্যজনক কারণে কেন্দ্রও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে অনীহা। রাখছে আশ্বাসের মূলা ঝুলিয়ে। কিন্তু ক্ষমতার সুবাতাসে এখন বিভক্ত বিএনপির নেতাকর্মিদের কনস্যুলেট ও স্থায়ী মিশনে টাই স্যুট পড়ে মহড়া দিতে কসরতের কমতি নেই। ১৭ বছর দখলে রাখা আওয়ামী নেতাদের চেয়ারগুলোতে এখন বিএনপির নেতারা বসে থাকেন । এ যেন এক মিউজিক্যাল চেয়ার। ক্ষমতা যাদের, চেয়ার তাদের। আগে মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা আওয়ামী নেতাদের অঙ্গুলি হেলনে চলতেন । এখন চলছেন বিএনপি নেতাদে কথায়।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এখন দলকে দেখভালোর চেয়ে সরকারি অফিসে দাওয়াত গ্রহণ ও সংবর্ধনা দিতে মহাব্যস্ত। গত ৬ মাসে ডজনেরও বেশি মন্ত্রী ও এমপি এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিএনপি নেতারা এসব নেতাদেন পেছনে পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে জুতা ক্ষয় করে ফেলছেন। প্রতিযোগিতায় নেমেছেন নেতাদের সংবর্ধনা দিতে। কে আগে দিবেন সংবর্ধনা। দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে তাদের আগ্রহ নেই।
