ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:৩৬ এএম, ২০ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার
৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ইরান চুক্তিতে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশটি নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও চরম একঘরে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় লিপ্ত যেকোনো দেশকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প জানান, যারা তেহরানকে কোনো আর্থিক, বাণিজ্যিক বা কূটনৈতিক সুবিধা দেবে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, নিবন্ধিত জাহাজ এবং ভুয়া কোম্পানির কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপকে একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ অভিহিত করে ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে তেহরানকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মার্কিন প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র আওতায় তেহরানের অর্থ প্রবাহ বন্ধে কঠোর তেল, নৌ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আসছে। তবে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ না করায় ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মাইক হ্যানা মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে কিছুটা হতাশার ছাপ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবার চীন, তুরস্ক ও ইরাকের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। ব্র্যান্ডিস ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাদের হাবিবির মতে, চীন সরকার এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাড়া না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বেজিংয়ের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা ওয়াশিংটনের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
