শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩   ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

বাড়ির মালিকদের ওপর কর বাড়াতে আদালতের না

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:৫১ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

 

 

নিউইয়র্ক সিটির ধনী বাড়ির মালিকদের ওপর আরোপ করতে যাওয়া বহুল আলোচিত ‘পিয়েদ-আ-তের’ কর বাস্তবায়নে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক। জনকল্যানে ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রতি ছিল জোহরান মামদানির।  তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরপরই আপিল করেছে মেয়র মামদানির প্রশাসন।

সোমবার এ মামলায় বিচারক করটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। সোমবার রাতেই সিটির ল’ ডিপার্টমেন্ট রায়টির বিরুদ্ধে ‘অবিলম্বে’ আপিলের জন্য কাগজপত্র জমা দেয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকের দেওয়া সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর না থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে মেয়রের দপ্তর। ফলে কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আপাতত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে মামদানি প্রশাসন।

এই মামলা দায়ের করেন সাবেক ফার্স্ট ডেপুটি মেয়র র‌্যান্ডি মাস্ত্রোা এবং নিউইয়র্ক সিটির আরও তিন বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, নতুন কর চালুর প্রক্রিয়ায় সিটি প্রশাাসন যথাযথভাবে যাচাই না করেই অনেক বাড়ির মালিকদের সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের শহরে থাকা কমপক্ষে ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ি এই করের আওতায় আনার কথা। রাজ্যের বাজেটে এ কর অনুমোদন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে হাজারো বাংলাদেশির একাধিক বাড়ি রয়েছে। তারা ল্যান্ডলর্ড হিসেবে পরিচিত। তারাও এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। 

তবে কর বাস্তবায়নের শুরুতেই বিতর্ক দেখা দেয়। জুলাই মাসে মেয়রের প্রশাসন সম্পত্তির মালিকদের চিঠি পাঠিয়ে জানায়, তাদের সম্পত্তি নতুন করের আওতায় পড়তে পারে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিউইয়র্কেই স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অনেক পরিবারও এমন চিঠি পেয়েছেন।

মামলার অন্যতম বাদী র‌্যাচেল ও’ব্রায়েন বলেন, তাদের বাড়িকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাসস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা ‘অযৌক্তিক’। তার দাবি, তিনি ও তার স্বামী সেখানেই বসবাস করেন এবং সেখানেই তাদের পরিবার গড়ে তুলেছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সিটি প্রশাসন একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে, যেখানে বাড়ির মালিকরা আবেদন করে জানাতে পারেন যে তারা করের আওতাভুক্ত নন। পরবর্তীতে আপত্তি বা অব্যাহতির আবেদন করার সময়সীমাও বাড়ানো হয়।

এদিকে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স প্রকাশিত একটি সম্পত্তির তালিকাও বিতর্কের জন্ম দেয়। তালিকায় থাকা অনেক সম্পত্তিকে নতুন করের আওতায় পড়তে পারে বলে মনে করা হয়। তবে মামদানি বলেন, এটি মূলত আইন অনুযায়ী প্রকাশিত একটি কর-তালিকা, যেখানে নিউইয়র্ক সিটির অধিকাংশ সম্পত্তিই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মেয়র মামদানি এর আগে নতুন কর নিয়ে নিউইয়র্কবাসীর উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে তার প্রশাসনের অবস্থান, নিউইয়র্কে মূল্যবান দ্বিতীয় বাড়ির মালিক ধনীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের এই উদ্যোগ শহরের করব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে মামদানির বহুল আলোচিত ‘ধনীদের ওপর কর’ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ।