শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ২৩ ১৪৩৩   ২৩ সফর ১৪৪৮

নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মারামারি

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:১৬ এএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার


    নিজেদেরই গুপ্ত ও জঙ্গি ট্যাগ
 
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যুক্তরাষ্ঠ শাখা। এতো দিন রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্য ব্যবহার করা হলেও এবার নিজেরা মারামারি করে প্রতিপক্ষকে জঙ্গি, গুপ্ত ও বহিরাগত বলেও ট্যাগিং করেছে সংগঠনটি নেতাকর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ সংগঠনটির শীর্ষসব নেতার উপস্থিতিতেই এ মারামারি হয়।
গত ৩ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রায় আধাঘন্টাব্যপী এ মারামারিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, পরে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াই পিডি) এসে জাকির হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতারও করেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত হক গণমাধ্যমকে বলেন, সভাপতি মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে আমাদের উপর অতর্কিত জঙ্গি হামলা হয়। তারা বাইর থেকে বহিরাহত পোলাপান এনে আমাদের উপর হামলা করে। আমরা শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমারদের উপর হামলার পর আমাদরে একজন আহত হন। তার শরীর থেকে রক্তও ঝরেছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা আওয়ামীলীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখানে যা হয়েছে, আওয়ামীলীগের লোকেরাইতো করেছে। আমি যদি আওয়ামীলীগ হই, ছাত্রলীগ হাই, তাহলে কিভাবে আমার ভাইয়ের গায়ে হাত তুলি। কি করে তা সম্ভব? কি করে হাত দিয়েছে? কেন হাত দিয়েছে? কার গায়ে হাত দিয়েছে? কি অন্যায় সে করেছে? কেন হাত দিয়েছে? কেন এমন হবে? দুর্ভাগ্য আমাদের, এরাই হলো হলো গুপ্ত। গুপ্তরাই এ কাজ করেছে। একজন জেলে আরেকজন হাসপাতালে। আমাদের নেত্রী দেশের বাইরে আর আমরা এখানে কি করতেছি। একদল বলতেছে নো সিদ্দিক। অথচ সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে পৌছায়ে দিছে।
এ সময় সিদ্দিকুর রহমানের সামনেই আহত সিহাবের পক্ষের লোকজন ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসানকে দায়ী করে তার পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দেয়। তারা হাসানের পক্ষে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কর্মীরা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক হৃদয় মিয়া বলেন, বহিরাগত একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছে।  যদিও আহত ও গ্রেফতার হওয়া দুইজনই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক। হামলার সঙ্গে নিজের নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অস্বীকার করে হাসান।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বররে শেখ হাসিনার ‘দেশে ফেরা’ এবং ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নবান্ন রেস্ট্রেরেন্টে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী-লীগ। এ অনুষ্ঠানে শো ডাউনকে কেন্দ্রকরেই সোমবারের সূত্রপাত। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান ও তার অনুসারী এবং যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শিহাব ও তার পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তা হাতা-হাতি থেকে শুরু করে মারামারিতে রূপান্তর নেয়। এ সময় নবান্নের সামনে খোলা জায়গায় ছোপ-ছোপ রক্তের দাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিজ দলের প্রতিপক্ষের হামলায় বেশি আহত হন শিহাব।
দুই পক্ষের সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এম্বুলেন্সে সহ পুলিশের ৮-৯টি যানসহ প্রায় ২০ জনের বেশি এনওয়ইপিডি সদস্য পুরো এলাকায় অবস্থান নেয়। পুলিশ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাহুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
এদিকে  এই ঘটনার পিছনে সিদ্দিকুর রহমানের ইন্ধন আছে বলে অভিযোগ করেছেন সিদ্দিকুর রহমানের প্রতিপক্ষরা। তারা বলেন, ১৩ বছর ধরে দলের ক্ষমতা কুক্ষগত করে রাখায় অনেক নেতাকর্মী তার উপর ক্ষুব্ধ। কোন অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো না হলেও তিনি তার অনুসারিদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যান, এবং আধিপত্য বিস্তার করেন। এসব কারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়া হয়। ওই দিনের ঘটনার শুরু হয় মহানগর আওয়ামী লীগের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান স্থল থেকে। ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে যান। তার পক্ষে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নব কমিটির কয়েকজন সদস্য। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারি, হাতাহাতি এবং রাস্তার কৌন দিয়ে মাথায় আঘাত। মারামারি নবান্ন অডিটোরিয়ামের নিচ তলা থেকে ৭৩ স্ট্রিটের রাস্তায় চলে আসে। দুই গ্রুপের মারামারির সময় জাকির হোসেন নবান্নের সামনে থাকা ট্রাফিক সেফটি কৌন দিয়ে শিহাব মাহমুদের মাথায় আঘাত করেন। এতে শিহাব মাহমুদের মাথা থেকে রক্ত বের হয়। এসময় সেখান থেকে পুলিশ কল দিলে সাথে সাথেই পুলিশ আসে। পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে ফেলে। পুলিশ এসে জাতির হোসেনকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে শিহাব মাহমুদকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যে কৌন দিয়ে শিহাব মাহমুদকে জাকির আঘাত করে সেই কৌন পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজদসহ অন্যরা স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়েও  জাকির হোসেনকে ছাড়াতে পারেননি। 
এ ধরনের ঘটনায় প্রবাসে রাজনীতি বন্ধ চান অনেকে ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা। তারা বলেন, বিভিন্ন কান্ডে এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এধরনের মারামারির ঘটনা ঘটলে আমেরিনারাও ভালো ভাবে নেয় না। দেশের রাজনীতি এখানে এনে কি লাভ? এতে দেশের কি উপরকার হয়? বরং এখানে ক্ষমতার প্রদর্শনী করে, পরে তাদের দল ক্ষমতায় এলে দেশে গিয়ে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে।