শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ২৩ ১৪৩৩   ২৩ সফর ১৪৪৮

মিশিগানে আল সাইয়িদের ঐতিহাসিক বিজয়

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৩৭ এএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার


 
#    বাংলাদেশিদের ভোট ছিল জয়ের নিয়ামক
 
 
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানির পথেই হাঁটতে যাচ্ছেন মিশিগানে সিনেট পদপ্রার্থী মিশরীয় বংশোদভূত আমেরিকান মুসলিম আব্দুল আল সাইয়িদ।  নিউইয়র্কে ১ বছর আগে প্রথমবারের মতো একজন মুসলমান মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সোশালিস্ট ডেমোক্র্যাট মামদানি। মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মুসলিম ও সোশালিস্ট ডেমোক্র্যাট আব্দুল আল সাইয়িদ জয়লাভ করলেন।  আগামী ৩ নভেম্বর বুধবারের নির্বাচনে তাকে সরাসরি লড়তে হবে রিপাবলিক্যান সিনেট পদপ্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে। মার্কিন রাজনীতিতে সিনেটের এই আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সিনেটে সংখ্যাগলিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রানপণ চেষ্টা করছে। আর এক্ষেত্রে মিশিগানের এই সিনেট সিট তাদের জন্য মাস্ট উইনিং আসন হিসেবে গন্য করা হচ্ছে। প্রাইমারিতে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়লাভ করেছেন। মিশিগানের বাসিন্দা ও সাংবাদিক হেলাল উদ্দীন  রানা আগামীর প্রতিবেদককে বলেন, এই স্টেটে প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন। যার ৯৫ ভাগ ভোট পেয়েছেন সাইয়িদ। এই ভোট না পেলে হয়তো তিনি জিততেই পারতেন না। এ বিবেচনায় বাংলাদেশিদের ভোট জয়ের জন্য ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। আব্দুল আল সাইয়িদ নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রথম মুসলিম সিনেটর। কংগ্রেসের ১০০ সদস্যের সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নেতৃত্ব দিবেন। সাইয়েদের বিজয়কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন মিশিগানের মানুষ। মিশিগানের বড় একটি অংশ আরব বংশোদভূত । এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশি সহ এশিয়ান আমেরিকান মুসলিমরা। নানা কারনে এসব ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও গাজায় ইজরাঈলী  হত্যাকান্ড মুসলমানরা মেনে নিতে পারেনি। সাইয়িদ এর বিজয় ট্রাম্পের ওপর অনাস্থার প্রতীক। মুসলমানরা নিজেদের কথা বলার জন্যই সাইয়িদকে নির্বাচিত করে সিনেটে পাঠাতে চায়। ৩ নভেম্বর সাইয়িদ জিতলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের জন্য রচিত হবে এক নতুন ইতিহাস।
উল্লেখ্য আব্দুল আল সাইয়িদ এর পিতামাতা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। সাইয়েদের জন্ম মিশিগানেই। মিশিগান স্টেট ইউনিভারসিটি ও বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়া ইউনিভারসিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে স্টেট গর্ভনর পদে নির্বাচন করে সফলতা পাননি। ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সিনেটর হবার স্বপ্ন নিয়ে এগুচ্ছেন আব্দুল আল সাইয়িদ।

প্রাইমারি নির্বাচনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের  সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল আল-সাইয়িদ দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ডেমোক্র্যাটদের অসন্তোষকেও কাজে লাগিয়েছেন। মিশিগানের মার্কিন সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ( হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্যে সোশালিস্ট/প্রগতিশীলদের জন্য এক বড় পরীক্ষার মঞ্চ প্রস্তুত হলো।
নভেম্বরের নির্বাচনে আল সাইয়িদ পাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। এই নির্বাচনের ফলাফল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ক্ষমতার পথে ফেরার জন্য মরিয়া দলটির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের যে বিভাজন দেখা দিয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন অংশকে ঐক্যবদ্ধ করাই হবে তাঁর প্রথম চ্যালেঞ্জ।নির্বাচনের ফলাফল ছিল অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) যখন তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে, তখন গণনা করা ১৫ লাখেরও বেশি ভোটের মধ্যে স্টিভেন্সের চেয়ে সাইয়িদ ১৪,৮৯৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন-যা মোট ভোটের ১ শতাংশেরও কম। যা মিশিগান রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথম।