সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ২ জনের মৃত্যু
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১০:১৮ এএম, ৪ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার
যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে এ সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
মিশিগানের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, মৃত দুই ব্যক্তিরই আগে থেকে গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতা ছিল। সাইক্লোস্পোরিয়াসিস এবং সংক্রমণজনিত পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) তাদের অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। গোপনীয়তার কারণে এ দুই ব্যক্তির বিষয়ে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।
এটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে (মাল্টিস্টেট) সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবে প্রথম নিশ্চিত মৃত্যুর ঘটনা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সাধারণত সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাণঘাতী রোগ নয়। তবে এ বছর মিশিগানে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ২৩৪টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, মিশিগানে অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা দুজনের সাইক্লোস্পোরিয়াসিস-সম্পর্কিত মৃত্যুর বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে এবং বিষয়টি চলমান প্রাদুর্ভাবের অংশ।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মে মাসের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। তবে চলতি মৌসুমে আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৮ হাজারের বেশি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৭টি নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও প্রায় সাড়ে ১১ হাজার নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণাধীন রয়েছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় সংক্রমণটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই হয়েছে কি না।
প্রাদুর্ভাবের উৎস শনাক্তে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), সিডিসি এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে টেইলর ফার্মস সরবরাহকৃত আইসবার্গ লেটুস বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দূষিত এসব পণ্য ইতোমধ্যে অনেক ভোক্তা খেয়ে ফেলেছেন অথবা দোকানের তাক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস কী?
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস একটি অণুবীক্ষণিক পরজীবী সাইক্লোস্পোরা দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রমিত ব্যক্তির তীব্র ডায়রিয়া হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে রোগটি চিকিৎসা ছাড়াও সেরে যেতে পারে। তবে চিকিৎসা না নিলে উপসর্গ এক মাস বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার কারণে শরীরে মারাত্মক পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
