এরশাদ খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করতে চেয়েছিল : গিয়াস
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৯:৫৩ এএম, ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
সাবেক সেনা শাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর করে নিজে রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া আপোষ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদ। তিনি স্বৈরাচারি এরশাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলেন। বরং স্বৈরশাসক এরশাদকে হটাতে জীবন বাজী রেখে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। গত ২৮ জুলাই কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি'র মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হল আয়োজিত সভায় নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি ওলিউল্লাহ আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন গিয়াস আহমেদ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেওলাওয়াত করেন মাঈনুদ্দীন মিয়াজী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম ও গোলাম ফারুক শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর এম আলম প্রমুখ।
গিয়াস আহমেদ বলেন, আমাদের শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার আদর্শ ধারন করতে হবে। শহীদ জিয়া বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে। বেগম জিয়া চাপের মুখেও এরশাদের মন্ত্রী সভায় যাননি। এরশাদ বলেছিলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী হন, আমি রাষ্ট্রপতি হব। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হন নি। ওয়ান ইলেভেনের নায়করাও খালেদা জিয়াকে বলেছিল আমরা আপনাকে ক্ষমতায় আনব, আমাদের কিছু করা যাবে না। কিন্তু খালেদা জিয়া রাজি হন নি। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সে সুযোগ নিয়েছে।
প্রবাসীদের কেন্দ্রে মূল্যায়ন করা হয় না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এখানে আমরা যারা আছি বেশির ভাগই আদুভাই। বিভিন্ন কমিটির নেতারা একই জায়গায় আছি। আমাদের আর যাওয়ার তেমন কোন জায়গা নেই। ছোট ভাইরাই এখন ঢাকায় অনেক বড় নেতা হয়ে হেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন আমাদনের মূল্যায়ন করা শুরু করেছেন। অনেকেউ প্রশ্ন করে দল করে কি পেলেন। আমি বলি, দল ক্ষমতায় আছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পেয়েছি আর কি চাই। আমরা চাই বাংলাদেশ ভালো থাকুম। স্টেট ডিপাটমেন্টে যখন লেখা থাকে বাংলাদেশে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ, তখন কি প্রবাসীদের ভালো লাগে? সে অবস্থা আর চাই না।
প্রধান অতিথি সেলিম ভূঁইয়া বলেন, প্রবাসে জাতীয়তাবাদী দল অনেক সংগঠিত ও দলীয় শৃঙ্খলাও ভালো। অনেকের মধ্যে প্রশ্ন আছে প্রবাসীরা দলে মূল্যায়িত হচ্ছে না কেন। সরকার গঠনের পাঁচ মাস হয়ে গেছে এখনো কিছু হয়নি। আপনারা হাতাশ হবে না। প্রধানমন্ত্রীর আপনাদের খেয়াল আছে, মূল্যায়ন করবে। ঢাকায় ১৩ জনকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আপনারাও পাবেন। সরকার প্রবাসীদের মূল্যায়ন করতে প্রবাসী কার্ড দিচ্ছে। এ কার্ড দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে সব জায়গায় বিশেষ সুবিধা ও মূল্যায়ন পাবেন। আপনাদের সে সমস্যা বাড়িঘর, জমিজমা অন্যরা দখল করে নেয় তা আর হবে না। এ কার্ড নিয়ে থানায় গেলে তারাও থানায় কম্পন শুরু হবে, তারা বুঝবে এ কার্ডের অবমাননা করা যাবে না।
