ট্যাক্সি ও উবার ড্রাইভারদের উপর হামলা থামছেই না
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৯:৪৩ এএম, ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যাক্সি ও উবার ড্রাইভারদের উপর হামলা থামছেই না। প্রায়শই খেটে খাওয়া এই পেশাজীবি ড্রাইভারদের ওপর হামলার খবর পাওয়া যায়। প্রতিদিন তারা ‘জান’ হাতে নিয়ে কাজে বের হন। কাজ শেষে ভালোভাবে তারা ঘরে ফিরবেন কিনা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন পরিবারের সদস্যরা। এক্সিডেন্ট, হামলা কিংবা বড় ধরনের টিকেটের ঝামেলা নিয়ে তাদের ঘরে ফিরতে হয়। অথচ তারাই লাখো নিউইয়র্কারদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেবার কাজটি করেন। গেল কয়েক সপ্তাহেই একাধিক ড্রাইভার হামলার শিকার হয়েছেন। ব্রুকলিনে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একজন বাংলাদেশি রাইডশেয়ার ও ট্যাক্সিচালক। জীবিকার সন্ধানে রাতভর নগরীর সড়কে থাকা চালকদের নিরাপত্তা, গাড়িতে ক্যামেরার ব্যবহার এবং হামলার পর দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।।
২৪ জুলাই গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি ড্রাইিভারের নাম রুহুল আমিন নাসির। কমিউনিটিতে তিনি মোহাম্মদ আমিন বা ‘এমডি আমিন’ নামেও পরিচিত বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স তাকে ৫০ বছর বয়সী ‘এমডি আমিন’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তিনি কুইন্সে বসবাস করেন এবং প্রায় ১৬ বছর ধরে নিউইয়র্কে গাড়ি চালিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ করছেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে। স্থানটি ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকার নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ-পার্ক ও মির্টল অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী অংশ, নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির হুইটম্যান হাউসেসের কাছে। তাকে গুলি ছোড়ার পর হামলাকারী হুইটম্যান হাউসেসের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গাড়ির ভাঙা কাচ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজনের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।
নিউইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশন-টিএলসি-হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে যেকোনো সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য এবং প্রত্যেক চালকের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার অধিকার রয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের তথ্যানুযায়ী, দুই সপ্তাহের মধ্যে কর্মরত কোনো চালকের ওপর এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলা। গেল বছর ব্রংকসে উবারের ভেতরেই পাকিস্তানী এক ড্রাইভারকে গুলি কওে হত্যা করা হয়।
১১ জুলাই ব্রুকলিনে আরেক চালক গলায় গুলিবিদ্ধ হন। ওই মামলাতেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির বক্তব্য, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে যে রাতের শিফটে কাজ করা ট্যাক্সি, লিভারি ও অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ার চালকেরা কতটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছেন।
ট্যাক্সিচালকদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু যাত্রীদের কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সড়ক দুর্ঘটনা, রোড রেজ, ছিনতাই, গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং আশপাশে চলমান বিরোধে অনিচ্ছাকৃতভাবে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তাদের মোকাবিলা করতে হয়। তারা প্রায়ই নগরীর এমন এলাকা ও সময়ে কাজ করেন, যখন প্রত্যক্ষদর্শী কম থাকে এবং দ্রুত প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও শহরের প্রতিটি ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার গাড়িতে ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন।
তার যুক্তি, গাড়ির ভেতর ও বাইরে সংঘটিত হামলার ভিডিও ধারণ করা গেলে পুলিশ দ্রুত সন্দেহভাজন শনাক্ত করতে পারবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলাকারীরাও ক্যামেরার উপস্থিতির কারণে নিরুৎসাহিত হতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশি চালক কমিউনিটির উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ হামলাকারী শনাক্ত না হলে একই এলাকায় চালকদের আবারও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হবে। রাইডশেয়ার ও ট্যাক্সিচালকদের বড় অংশ অভিবাসী। অনেকেই পরিবারের একমাত্র বা প্রধান উপার্জনকারী। কর্মরত অবস্থায় আহত হলে তারা শুধু চিকিৎসা সংকটেই পড়েন না-দীর্ঘ সময় গাড়ি চালাতে না পারায় আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।
