শনিবার   ১৮ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ২ ১৪৩৩   ০২ সফর ১৪৪৮

বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ’র ২৫ বছরের কারাদন্ড!

হাসান মাহমুদ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৪৮ এএম, ১৮ জুলাই ২০২৬ শনিবার


যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ ও মানব পাচারে জড়িত বাংলাদেশিরা 
 

যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচার ও অর্থপাচারে জড়িত বাংলাদেশিদের প্রশাসন কর্তৃক নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্রাজিল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচারের অভিযোগে গত সোমবার বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ (৩৯), মিলন (৩৮) এবং মোক্তার হোসেনকে (৩৯) অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাইফুল্লাহ আল মামুন ওরফে সাইফুল্লাহ অন্যতম। সে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচার করার ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে ব্রাজিল থেকে আটক করার পর সোমবার টেক্সাসের লারেডোতে আদালতে পুলিশ হাজির করে। ব্রাজিলের জঙ্গল দিয়ে  মেক্সিকো সীমান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচার করা হতো। ৩৯ বছর বয়সী সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে  মানব পাচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে। আল-মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশীদের পাচারের ষড়যন্ত্র, আর্থিক লাভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশীকে আনার একাধিক অভিযোগ এবং বিদেশীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে উৎসাহিত ও প্ররোচিত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। সব ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত সরকারের সুবিধাভোগিরা দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার কাজে জড়িত সন্দেহে অনেক বাংলাদেশিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচার ও অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) গুরুতর অপরাধ। নিউইয়র্কে এই গোষ্ঠির পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, রিয়েল এস্টেটের মতো ব্যবসায় বিনিয়োগ করার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা যায়। সরকারী আমলা, পুলিশ অফিসার, রাজনৈতিক নেতারা এই অর্থ পাচারের কাজে জড়িত বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিলন হোসেন এবং ৩৮ বছর বয়সী মোক্তার হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচারে জড়িত। ব্রাজিলের সাও পাওলো এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকোর অন্যান্য স্থান থেকে বহু মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হতো। সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে ব্রাজিলে অবৈধ লোকদের থাকার ব্যবস্থা করার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে যে, মোহাম্মদ মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের আশ্রয় দিতেন এবং মেক্সিকোর মন্টেরিতে পাচারের সময় পরিবহনের ব্যবস্থা করতেন। মানব পাচারের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে তাদেরকে রিও গ্র্যান্ডে পেরিয়ে দক্ষিণ টেক্সাসে নিয়ে যাওয়া হতো বলে নথিতে বলা হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের নাগরিক আল-মামুনকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে হাজির করার জন্য আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে।