বৃহস্পতিবার   ১৬ জুলাই ২০২৬   আষাঢ় ৩১ ১৪৩৩   ৩০ মুহররম ১৪৪৮

আলোচনায় না এলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা: ট্রাম্প

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:১৪ এএম, ১৬ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার

আলোচনায় ফিরে না এলে আগামী সপ্তাহে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এদিকে টানা চতুর্থ দিনের মতো দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহটা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতে যাচ্ছে। তারা যদি আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেব। তিনি আরও জানান, জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা আপাতত শেষ বিকল্প হিসেবে রাখা হলেও প্রয়োজন হলে সেগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ট্রাম্পের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন আলোচকরা ইরানকে বার্তা দিয়েছেন চুক্তিতে না এলে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।

তবে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ মাশুল আরোপের আগের হুমকি থেকে সরে এসেছেন। এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বড় পরিসরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পুনরায় কার্যকর করার ঘোষণা দেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক আইন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনেও বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমাতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দাবি, ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে কয়েকজন নাবিক নিহত ও আহত হয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। পরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, ট্যাঙ্কার দুটি সতর্কবার্তা অমান্য করেছিল।

এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ড্রোন প্রতিহত করছে। একই সময়ে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তেহরান দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যাঙ্কারে হামলার পাশাপাশি তারা বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে।