ইসরায়েলের হাত ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র?
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৪০ এএম, ৭ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সম্প্রতি টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ধারণা করছেন, দেশ দুটির মধ্যকার ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হয়তো শেষ হতে চলেছে। এমনকি অনেক ইসরায়েলিও মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছেন।
গতকাল সোমবার আলজাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সংগঠিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনই তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই ইসরায়েলের ওপর থেকে ছায়া সরিয়ে নেয়, তাহলে সংকটে পড়তে পারে জায়নবাদী সরকার।
এদিকে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিপজ্জনক পথে হাঁটছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডের ঝুঁকি, অন্যদিকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা। এর মধ্যে ইরান ও লেবাননের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটনের চাপ এবং ইসরায়েলি জনগণের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা– এসবের মাঝে পড়ে নেতানিয়াহু তাঁর চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে ফাটল
২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। ইরানের বিষয়ে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে এক বছর পর সেই সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে ইরান দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে। এই শর্তটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ফোনালাপের সূত্রে আলজাজিরা জানায়, ট্রাম্প লেবাননে হামলা বন্ধ না করায় নেতানিয়াহুকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন। এমনকি হোয়াইট হাউসও এই খবরের সত্যতা অস্বীকার করেনি।
খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘উন্মাদ’ ও ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন হস্তক্ষেপ না থাকলে নেতানিয়াহু এতদিনে জেলেই থাকতেন। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে এবং এর কারণে সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করছে।’
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা গ্রেট’ শিবিরেও ইসরায়েলবিরোধী হাওয়া
সাম্প্রতিক জরিপগুলো বলছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণই ইসরায়েলের বিপক্ষে নয়, বরং ট্রাম্পের ডানপন্থি মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন বিপ্লবের একাংশের মধ্যেও ইসরায়েল নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে। মার্জোরি টেইলর গ্রিনের মতো কট্টর ট্রাম্প অনুসারীরাও এখন ইসরায়েলকে ঢালাও সমর্থনের সমালোচনা করছেন। সাবেক টিভি উপস্থাপক টাকার কার্লসন বলেছেন, ইসরায়েলই ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ফুসলিয়েছে, যেন সেই সুযোগে তারা লেবাননে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করতে পারে। তবে ট্রাম্প অবশেষে বুঝতে পেরেছেন যে, ইসরায়েলই তাঁর প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক কি ভাঙছে?
২০১৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ১০ বছরে ইসরায়েলকে ৩৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে চরম বৈশ্বিক সমালোচনার মুখেও জাতিসংঘে অন্তত ছয়বার ভেটো দিয়ে ইসরায়েলকে রক্ষা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার মনে করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দ্বন্দ্ব এবারই প্রথম নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যতটা প্রকাশ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তা এবারই প্রথম। তবে ট্রাম্প যদি ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন, তবে তা কোনো বড় অর্জনের লক্ষ্যেই করবেন। এই মুহূর্তে আসলে এমন কোনো ইস্যুই নেয়, যা ট্রাম্পকে ভাবমূর্তি উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
