৩০ জুনই নির্বাচনী মহড়ার প্রাথমিক দৃশ্য
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩৯ এএম, ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার
সোসাইটি নিয়ে খেলা চলছে অন্দরমহলে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক-এর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কসহ পুরো কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ ও তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্যানেল গঠন ও ভোটার সংগ্রহের কৌশল নিয়ে খেলা চলছে অন্দও মহলে। সংগঠনের সদস্যপদ সংগ্রহ কার্যক্রমের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী ১৮ অক্টোবর। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি। তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। ৩০ তারিখে সদস্য সংগ্রহের খতিয়ানই পূর্বাভাস দেবে আগামী নির্বাচনের বার্তা। কমিউনিটির নাটের গুরুরা দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন। তহবিল সংগ্রহ করছেন ভোটার করতে। ৩০ জুনই প্রাক নির্বাচনী মহড়া হয়ে যাবে।
নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সদস্যপদ সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আজীবন সদস্য এবং ৮০০ জন নতুন ও নবায়ন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো অনেকেই ফর্ম জমা দেননি। শেষ সময়ে সদস্য সংখ্যা ২০ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে।
সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আজীবন সদস্যের জন্য ৫০০ ডলার এবং সাধারণ সদস্যের জন্য ২০ ডলার। তবে একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আজীবন সদস্য হলে একজনের ৫০০ ডলার ফি দিলেই দুজন সদস্য হতে পারবেন। আলাদা ফি দিতে হবে না।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দুটি প্রধান প্যানেল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী নেতৃত্বাধীন প্যানেল। অন্যটি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আলম নেতৃত্বাধীন প্যানেল। দুই পক্ষই এখন কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। স্বতন্ত্র সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ রাব্বী নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ১৮ অক্টোবর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত নয়।
নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় উভয় প্যানেলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলী প্যানেল দাবি করছে, তারা দায়িত্বকালীন সময়ে কমিউনিটির উন্নয়নমূলক বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টার উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল স্থাপন এবং মাসিক জব সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা। তারা আরও বলছেন, স্টেট থেকে প্রাপ্ত ৬৫ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
কুনু-ফিরোজ প্যানেল নতুন নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার কথা বলছে এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় রয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে উৎসাহ বাড়লেও এখনো নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ভোট গ্রহণ হতে পারে। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। এটাই সবার প্রত্যাশা।
