শনিবার   ২৭ জুন ২০২৬   আষাঢ় ১২ ১৪৩৩   ১১ মুহররম ১৪৪৮

আমাদের ছিলেন একজন শামসুল হক

মনোয়ারুল ইসলাম

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:০৬ এএম, ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার

মন্তব্য প্রতিবেদন

 

সত্যিই আনলাকি থারটিন। দিনভর উৎসাহিত ছিলাম। ‘ইতিহাস গড়ছে বাংলাদেশিরা’ এমন একটি রিপোর্ট লেখার অপেক্ষায় ছিলাম। আনলাকি থারটিন ভর করলো মাথায়। হাসতে পারলাম না। উচ্ছাসে মাটি চাপা পড়লো। আমরা হাসতে ভুলেই গেছি। সেই ৫ বছর আগে শাহানা হানিফ সিটি কাউন্সিলওম্যান পদে নির্বাচিত হবার পর হেসেছিলাম। নিউইয়র্ক সিটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন শাহানা। দ্বিতীয়বার উল্লসিত হয়েছিলাম বাংলাদেশি ‘আন্টিদের’ প্রসংশায় পঞ্চমুখ মামদানির বিজয়ে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে যাবার পালা। অদম্য অগ্রসরমান কমিউনিটি। আমাদের একজন শামসুল হক ছিলেন। পেশায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। এনওয়াইপিডির সাবেক লেফট্যানেন্ট কমান্ডার। মামদানির নির্বাচনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ছিলেন মেয়র ইলেক্ট মামদানির ট্রানজিশনাল টিমের সদস্য। ব্যক্তিগতভাবে তার সাথে জানাশোনা। ভদ্র, বিনয়ী ও সৎ শামসুল হক পাবলিক অফিসের জন্য লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। লড়বেন এসেমব্লিম্যান পদে। ডিস্ট্রিক্ট ৩০ বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী ইমিগ্রান্ট অধ্যুষিত এলাকা। এ নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪ হাজারের মতো বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন। 
গ্রাউন্ড ওয়ার্ক, নির্বাচনী প্রচারনা, তহবিল সংগ্রহ ও ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন চালিয়ে সাড়া ফেললেন শামসুল। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছিল তার বিজয়ের বার্তা হচ্ছিল জোড়ালো। সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও সোশালিস্ট আমেরিকার কর্ণধার সিনেটর বার্ণি সেন্ডার্স তাকে সর্মথন দিলেন। একধাপ এগিয়ে গেলেন শামসুল। ভোটের দিন বাংলাদেশিদের সবার মুখে মুখে ছিল শামসুল জিতবেন। ফলাফলে দেখা গেল তিনি ১৩ ভোটে হেরেছেন।তিনি পেয়েছেন ২৬৯০ ভোট। প্যাট্রিক মার্টিনেজ ২৭০৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। এই আসনে নেপালী ইমিগ্রান্ট সোমনাথ ঘিমির পেয়েছেন ৬৮৯ ভোট।
নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটলে বাংলাদেশিরা ইতিহাস গড়েতে গিয়েও ব্যর্থ হলেন। অনেকেই এখন আফসোশ করছেন। কেন ভোট কেন্দ্রে গেলাম না। বিশ্বকাপ খেলা না দেখলেই পারতাম। অলসতায় জাতির একটি অর্জন হাতছাড়া হয়ে গেল। 
হিসেব অনেকেই মেলাতে শুরু করেছেন। যে বাংলাদেশিরা মামদানির জন্য জান দিয়ে ফেললেন। বিজয় উৎসব করলেন। হাজার ডলার ফান্ড দিলেন মামদানিকে।  তিনি কেন শামসুলকে এনডোর্স করলেন না। রাজনীতির একলাইনের সৈনিক/কমান্ডার বার্নি স্যান্ডাস সর্মথন দিলেও মামদানি কেন নিশ্চুপ ছিলেন। প্রভাবশালী সিটি ক্উান্সিলওম্যান ও বাংলাদেশিদের গর্ব শাহানা কেন শামসুলের পাশে দাঁড়ালেন না? ক্রাউলী ফ্যামিলীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী ওকাসিও কর্টেজও বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়ান নি। অথচ মামদানির আর্শীবাদ থাকলে ১৩ ভোটে হার নয়। বিপুল ভোটে জিততেন শামসুল হক। মামদানি বাংলাদেশিদের ভালবাসার মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। 
হারার পর অনেকেই নানা কথা বলছেন। অনেকে বলছেন, বিজয়ী প্রার্থী ভোট কিনেছেন অর্থের বিনিময়ে।অনেক পোল ওয়ার্কার বিজয়ী প্রার্থীর খাবার খেয়েছেন। অনেক পোল ওয়ার্কার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেননি ইত্যাদি। অনেকে ভোট পুন:গননার দাবি করছেন। আফশোসের শেষ নেই। অথচ এই আবেগ নিয়ে নির্বাচনে কাজ করলে বিজয় ছিল সুনিশ্চিত। তবে শামসুল হকে নির্বাচনে ভলেন্টিয়াররা ও কমিউনিটির বহু মানুষ অতীতের চেয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। পরিশ্রম করেছেন। এই নির্বাচন থেকে অনেক শেখবার আছে বাংলাদেশি কমিউনিটির। 
এস্টেরিয়া ও সানিসাইড এলাকা নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট ৩৬ থেকে নির্বাচন করেছেন মেরি জোবায়দা। তিনি ১৯৬৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। বিজয়ী ডিয়ানা মরেনো পেয়েছেন ৯০৫১ ভোট। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেরি মাত্র পেয়েছিলেন ৬৫১ ভোট। সে বিবেচনায় মেরি এবারে অনেক ভালো করেছেন। কমিউনিটিতে সুপরিচিত মেরি এবারের নির্বাচনে অনেক পরিশ্রম করেছেন। গত নির্বাচনের চেয়ে ভোট পেয়েছেন ৩ গুন। 
প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে সাড়া ফেলেছেন জাকির চৌধুরী সিপিএ। তিনি পেয়েছেন ১৬০৯ ভোট। বিজয়ী ক্যারিনা রয়েস পেয়েছেন ৪১০০ ভোট। এই আসনেও  (ডিস্ট্রিক্ট ৮৭, ব্রংকস) বাংলাদেশি প্রার্থীকে এনডোর্স করেননি মামদানি। তিনি ইনকামব্যান্ট ক্যারিনা রয়েসকে সর্মথন দিয়েছিলেন। 
জামাইকা এলাকায় (ডিস্ট্রিক্ট ৩২) জে মোল্লা সানী প্রথমবার নির্বাচন করে ৭৫৫ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী নাথানিয়েল হেজখিয়া পেয়েছেন ৩৬১৭ ভোট। 
ভোটের পরদিন শামসুল হক, জাকির চৌধুরী ও জে মোল্লা সানী পৃথক পৃথক বিবৃতিতে ভোটার, ভলেন্টিয়ার ও ডোনারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।