শনিবার   ২০ জুন ২০২৬   আষাঢ় ৫ ১৪৩৩   ০৪ মুহররম ১৪৪৮

২৬ জুন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি: বাংলাদেশিদের পরীক্ষা

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:০৩ এএম, ২০ জুন ২০২৬ শনিবার


 
 
২৬ জুন নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি। ৫ বাংলাদেশি আমেরিকান নির্বাচন করছেন। ধরে নেয়া হয়, এই নির্বাচনে যিনিই নির্বাচিত হন তাকেই চূড়ান্ত নির্বাচনে তাকেই বিজয়ী । এবার নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী পদে বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে প্রতিদন্ধিতাকারী হচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শামসুল হক, সিপিএ জাকির চৌধুরী, মেরী জোবাইদা,  মোহাম্মদ জে মোল্লা সানি ও পিয়া রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি, এশিয়ান এবং অভিবাসী কমিউনিটির অংশগ্রহণ দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। একসময় শুধুমাত্র ভোটার কিংবা কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে পরিচিত অভিবাসীরা এখন সরাসরি নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানোর লড়াইয়ে শামিল হচ্ছেন। ২০২৬ সালের নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচন সেই পরিবর্তনেরই এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই নির্বাচন শুধু কয়েকজন প্রার্থীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, অর্জন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতিফলন। একইসঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা বহন করছে।
নিউইয়র্কের ২০২৬ সালের স্টেট অ্যাসেম্বলি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশি সহ অভিবাসী কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ। এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য নয়, বরং সমগ্র অভিবাসী ও এশিয়ান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি।
এবারের নির্বাচনে স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য পদে পাঁচজন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা হলেন ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ থেকে মেরী জোবাইদা, ডিস্ট্রিক্ট-৩০ থেকে শামসুল হক, ডিস্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে সিপিএ জাকির চৌধুরী, ডিস্ট্রিক্ট-৩২ থেকে মোহাম্মদ জে মোল্লা সানি ও ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ থেকে পিয়া রহমান। তাঁদের মধ্যে দুইজন প্রগতিশীল নারী প্রার্থী মেরী জোবাইদা ও পিয়া রহমানের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রার্থীরা নিজ নিজ ডিস্ট্রিক্টে ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, আবাসন, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অভিবাসী অধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পেশাগত অভিজ্ঞতা, কমিউনিটি সেবা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে তাঁরা ইতোমধ্যেই ভোটারদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।
অতীতে বাংলাদেশি প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ে তহবিল সংগ্রহে ব্যস্ত থেকেছেন। ম্যাচিং ফান্ড পাবার প্রত্যাশায় নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। দেখা গেছে, স্টেট থেকে ৫০ হাজার ডলার ম্যাচিং ফান্ড পেয়ে ৫ শত ভোটও বাক্সে ভর্তে পারেননি। এটি প্রার্থী ও কমিউনিটির জন্য লজ্জাস্কর। অবশ্য এই ধারা ভঙ্গ করে শাহানা হানিফ সিটি কাউন্সিলওম্যান পদে বারবার নির্বাচিত হচ্ছেন। উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির মুখ। তিনি অর্থের দিকে না তাকিয়ে রাজনীতি ও জনগনের সেবাকেই আলিঙ্গন করেছেন। ২০২৬ এর নির্বাচনে অতীতের চেয়ে বাংলাদেশি প্রার্থীরা অধিক সর্তক। ভোটের মাঠে সরব। শুভ কামনা সবার জন্য।