মেয়রের পদ থেকে মামদানিকে অপসারণের ষড়যন্ত্র
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:০০ এএম, ২০ জুন ২০২৬ শনিবার
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়াইনে মুলিন প্রকাশ্যে নিউইয়র্কবাসীর উদ্দেশে ‘বোধোদয়’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে মেয়র মামদানিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে গত ১১ জুন অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ নীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুলিন মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি তাকে ‘র্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্ট’, ‘পুলিশ বিরোধী’ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। মুলিন বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ দেশের অন্যতম দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হলেও তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে, যিনি তাদের কাজের পরিধি সীমিত করে দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘এনওয়াইপিডির সদস্যরা তাদের কাজ করতে চান, কিন্তু তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে যিনি তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কবাসী আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ‘প্রকৃত নেতৃত্ব’ বেছে নেবে বলে তিনি আশা করেন। মুলিনের এই মন্তব্যকে শুধু প্রশাসনিক সমালোচনা হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ওই বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে উল্লেখ করেন এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোসহ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ থাকার কথাও বলেন। অভিবাসন নীতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন এবং সংস্থাটির ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইস-এর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পক্ষে। এর আগেও মুলিন অভিযোগ করেছিলেন যে মেয়র মামদানির অভিবাসন নীতি নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তবে মামদানির সমর্থকরা বলছেন, তিনি অভিবাসী সম্প্রদায়, শ্রমজীবী মানুষ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। তাদের মতে, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ মূলত অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার এবং স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে মতপার্থক্যের প্রতিফলন।
নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাক্যবিনিময় কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, বরং ফেডারেল সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নিউইয়র্ক সিটির প্রগতিশীল প্রশাসনের মধ্যে বৃহত্তর আদর্শিক সংঘাতের প্রকাশ।
