শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪৩৩   ২৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

ওয়ার্ক পারমিট হারানোর শংকায় অভিবাসীরা

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৪৫ এএম, ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার


 
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া লাখ লাখ অভিবাসী হারাতে পারেন ওয়ার্ক পারমিট। ডিইচএস বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসন প্রত্যাশী ও বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়া নাগরিকদের এবং বহিষ্কারাদেশ প্রাপ্তদের ওয়ার্ক পারমিট বন্ধে নতুন নীতি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। ডিএইচএস এর নতুন একটি প্রস্তাবিত নিয়মের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করা হতে পারে। এতে মানবিক প্যারোলে থাকা অভিবাসী, ডিফার্ড অ্যাকশন সুবিধাভোগী এবং বহিষ্কারের আদেশের মুখোমুখি অনেক ব্যক্তি সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসীর বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাতিল হতে পারে। এছাড়া ওয়ার্কপারমিটের মেয়াদও সংকুচিত করা হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত নিয়মে বলেছে, কর্মসংস্থান অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হবে এবং অনেক ক্ষেত্রেই অনুমতির মেয়াদ এক বছরে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। আবেদনকারীদের অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা প্রমাণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জন্য কর্মস্থলকে ফেডারেল ই-ভেরিফাই কর্মসূচিতে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
তবে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারনে অভিবাসীরা, যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ রয়েছে কিন্তু বিভিন্ন কারণে তারা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই শ্রেণির অধিকাংশ ব্যক্তি ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্রে, যেখানে কাউকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, সেখানে সীমিত অনুমতির সুযোগ রাখা হতে পারে।
ডিএইচএসের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসনের প্রণোদনা কমানো, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। 
তবে সমালোচকদের দাবি, এর ফলে বৈধভাবে কাজ করা হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন এবং অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংকটে পড়বে।
২০২৪ অর্থবছরে মানবিক প্যারোল, ডিফার্ড অ্যাকশন এবং বহিষ্কার-সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছিল। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম ক্লেইনের মতে, কর্মসংস্থান অনুমতিকে একটি নিশ্চিত অধিকার নয় বরং সরকারের বিবেচনাধীন সুবিধা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে প্রশাসন। এতে ভবিষ্যতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর আবেদনকারীদের ভাগ্য আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের প্রধান নির্বাহী জেনি মারে সতর্ক করে বলেছেন, বৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের কর্মসংস্থান সীমিত করা হলে তা শুধু অভিবাসীদের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে যেসব খাত অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে কর্মী সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে।
প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনো চূড়ান্ত নয়। জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর এটি কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।