ইন্টারভিউ ছাড়াই অ্যাসাইলাম আবেদন বাতিলের উদ্যোগ
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩৪ এএম, ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদন সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত বাতিলের পরিকল্পনা করছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। এজন্য ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর অবস্থান করার পর অ্যাসাইলাম আবেদন করেছেন এবং যাদের নথি প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয় তাদের সাক্ষাৎকার না নিয়েই আবেদন দ্রুত বাতিল করতে পারবেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এতে লাখো মুলতবি আশ্রয় মামলার জট কমানোর দাবি করছে প্রশাসন। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এতে অনেক বৈধ আবেদনকারী ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এমএসএন নিউজের জোসেফ ওয়েবারের রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ।
সিবিএস নিউজ তাদের কাছে থাকা অভ্যন্তরীণ সরকারি নথির বরাত দিয়ে প্রাকাশিত খবরে জানায় , ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন একটি নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ করছে। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইস কিছু আশ্রয় আবেদন সাক্ষাৎকার ছাড়াই বাতিল করার ক্ষমতা দেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পরে কেউ আশ্রয়ের আবেদন করলে এবং নথিপত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যতিক্রমের প্রমাণ না থাকলে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার না নিয়েই আবেদন বাতিল করতে পারবেন।
বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রায় সব আশ্রয় আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে তাদের দাবির সত্যতা যাচাই করে থাকে। নতুন নীতি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
নথি অনুযায়ী, আবেদন বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কার প্রক্রিয়ার আওতায় অভিবাসন আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে তাকে বিচারকের সামনে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার প্রমাণ করতে হবে।
ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন করতে হয়। তবে গুরুতর অসুস্থতা, অযোগ্য আইনি পরামর্শ বা অন্য বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এই সময়সীমা শিথিল করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এক বছরের সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।
প্রস্তাবিত বিধিতে বলা হয়েছে, যদি কোনো কর্মকর্তা মনে করেন আবেদনকারী এসব ব্যতিক্রমের আওতায় পড়েন, তাহলে তার সাক্ষাৎকার নির্ধারণ করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মামলা এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইউএসসিআইএসের এক মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে জানান, বাইডেন প্রশাসনের সময় তৈরি হওয়া আশ্রয় মামলার বিশাল জট কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে।
তার ভাষায়, “ত্রুটিপূর্ণ আবেদনগুলো দ্রুত অভিবাসন আদালতে পাঠানো হলে ইউএসসিআইএসের সময় বাঁচবে এবং আবেদনকারীরা বিচারকের সামনে তাদের দাবি উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।”
তবে আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তাকারী সংগঠন অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি প্রজেক্টের সহ-নির্বাহী পরিচালক ও অভিবাসন আইনজীবী কনচিতা ক্রুজ এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, অনেক মানুষ বৈধ কারণে এক বছরের পরে আশ্রয়ের আবেদন করেন। কেউ হয়তো দীর্ঘদিন ভিসা বা অন্য বৈধ স্ট্যাটাসে ছিলেন, আবার কারও বিশেষ ব্যক্তিগত পরিস্থিতি থাকতে পারে। সাক্ষাৎকারের সুযোগ না দিলে তারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ হারাবেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় মামলার জট রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ দিকে ইউএসসিআইএসের কাছে প্রায় ১৫ লাখ আশ্রয় আবেদন মুলতবি ছিল। অন্যদিকে, বিচার বিভাগের অভিবাসন আদালতগুলোতে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ লাখ মামলা অপেক্ষমাণ ছিল, যার মধ্যে ২৩ লাখই আশ্রয় সংক্রান্ত।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প প্রশাসন আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথাকথিত “নিরাপদ তৃতীয় দেশ” চুক্তি করেছে, যার আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠিয়ে সেখানে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
