হাউজে যুদ্ধবিরোধী ভোট ট্রাম্প বললেন ‘অদেশপ্রেমিক’
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩৭ এএম, ৭ জুন ২০২৬ রোববার
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশনা সংক্রান্ত প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ) একটি ভোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘অদেশপ্রেমিক’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন। এটি তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে তার চূড়ান্ত আলোচনা চলাকালীন সময়ে এই ভোট আনা হয়েছে। তার ভাষায়, আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা অবগত থাকা সত্ত্বেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটে রিপাবলিকান দলের চার সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে ২১৫-২০৮ ভোটে এটি পাস হয়। এখন বিলটি সিনেটে পাঠানো হবে।
এই ঘটনায় ডেমোক্র্যাটদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার আরেকটি সাফল্য দেখতে চায় না এবং দেশের ব্যর্থতা দেখতেই বেশি আগ্রহী।
একই সঙ্গে নিজের দলের চার সদস্যের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এমন অবস্থান নিয়েছেন এবং এ জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।
তিন মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নিতে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এমন পদক্ষেপ নিলো। তবে বিলটি শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের আপত্তির মুখে পড়তে পারে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে হামলা চালানোর মাধ্যমে ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনও সংঘাতে সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়োজিত করার পর প্রেসিডেন্টকে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, সেই সময়সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম করেছে এবং ট্রাম্প এখন আইন লঙ্ঘন করেই যুদ্ধ পরিচালনা করছেন।
