শনিবার   ০৬ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪৩৩   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

‘নিউইয়র্ক মাথা নত না’

মেয়র মামদানির হুশিয়ারি

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৪১ এএম, ৬ জুন ২০২৬ শনিবার

 

 
অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও নিউইয়র্ক সিটির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন ‘স্যাংকচুয়ারি সিটি’গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সরাসরি পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
এমএসএনবিসির ‘দ্য ব্রিফিং উইথ জেন সাকি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “আমাদের আইন ও মূল্যবোধ কোনো দর-কষাকষির বিষয় নয়। আমরা ভয়ভীতি বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করব না। নিউইয়র্ক একটি স্যাংকচুয়ারি সিটি এবং এ নিয়ে আমরা গর্বিত।”
তিনি বলেন, “নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমরা গর্বিত যে, এই শহরের ৩০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা অভিবাসী। আমিও তাদের একজন।”
সম্প্রতি নিউ জার্সির ডেলানি হল অভিবাসন আটক কেন্দ্রকে ঘিরে বিক্ষোভের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। আটক অভিবাসীদের অনশন, মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রটির বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যান্ডি কিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আইস কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত পেপার স্প্রের কারণে আহত হন বলে জানা যায়। তিনি দাবি করেন, আটক বহু অভিবাসী ও অনশনকারীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।
এরই মধ্যে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন বলেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর বিভাগ এমন পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে, যাতে ফেডারেল অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করা স্যাংকচুয়ারি শহরগুলোর বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট প্রক্রিয়াকরণ সীমিত বা বন্ধ করা যেতে পারে।
মুলিনের এই মন্তব্যের জবাবে মামদানি বলেন, “আমরা এই ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে মাথা নত করব না। নিউইয়র্কের মানুষকে নিষ্ঠুর নীতির হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইস বর্তমানে নিউইয়র্কসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যত জবাবদিহিতাহীনভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। তাঁর মতে, অনেক অভিবাসী জানেন না কোন পরিস্থিতিতে তারা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
মামদানি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছি। আমাদের আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাই না। তবে আমি স্পষ্টভাবে তাঁকে জানিয়েছি, আইসের অনেক কর্মকাণ্ড নিষ্ঠুর ও অমানবিক। এসব পদক্ষেপ জননিরাপত্তার স্বার্থও রক্ষা করে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন ও নিউইয়র্ক সিটির বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে স্যাংকচুয়ারি সিটি নীতি, আইসের অভিযান এবং অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে নতুন আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাত দেখা দিতে পারে।
নিউইয়র্ক, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত বড় শহরগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ইস্যুতে  ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য সেই বিরোধকে আরও প্রকাশ্য ও তীব্র করে তুলেছে।