বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪৩৩   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৩৬ এএম, ৪ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে জানায় ইউএসটিআর। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউএসটিআর-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে দেশগুলোর ব্যর্থতার কারণে মার্কিন বাজারে সস্তা পণ্য প্রবেশ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের জন্য অসদুপায় ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে এবং বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা আংশিক নিয়ম কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তালিকায় কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান রয়েছে।

দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা সম্পূর্ণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই গ্রুপে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ ৫৪টি দেশ রয়েছে।

ইউএসটিআর একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’-এর প্রস্তাব করেছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই উদ্যোগ কোনো স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা পরবর্তী শুনানির পর স্পষ্ট হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈষম্য আর সহ্য করা হবে না।

 প্রস্তাবিত শুল্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি বর্তমানে অংশীজনদের মতামত ও শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২২ জুন গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন এবং বক্তব্যের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ৬ জুলাই প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে লিখিত মতামত বা আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ সময়। ৭ জুলাই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
 
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। প্রস্তাব কার্যকর হলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হতে পারে। এতে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো, যেমন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ছাড় আদায়ের সুযোগ পাবে।