গ্রিনকার্ড পেতে আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৫৩ এএম, ৩০ মে ২০২৬ শনিবার
গ্রিনকার্ডের আবেদন চলাকালে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ সীমিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় এমন একটি আইনি ফাঁক রয়েছে, যার মাধ্যমে অনেক অভিবাসী স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যেতে পারছেন। এটা আর চলবে না। আবেদন বিবেচনা চলাকালীন সময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন না। নিজ দেশে ফিওে যেতে হবে।
গত শুক্রবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)) নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যারা অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস থেকে স্থায়ী অভিবাসী স্ট্যাটাসে যেতে চান, তাদের সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
, নতুন নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে-ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২৪৫(এ) ধারার অধীনে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদনকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে, যা সাধারণত আবেদনকারীর নিজ দেশ থেকেই সম্পন্ন হওয়ার কথা।
এর অর্থ হলো, যারা গ্রিনকার্ড বা বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি চান, তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে, সেখানে নিরাপত্তা যাচাই ও প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সংগ্রহ করে পরে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।
ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ এডলো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িক প্রবেশ এবং স্থায়ী বসবাসের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে।
তিনি বলেন,“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে ইউএসসিআইএস আইনের মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাচ্ছে এবং সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও স্থায়ীভাবে বসবাসের মধ্যে সঠিক পার্থক্য পুনরায় জোরদার করছে। যারা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং পরে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি চায়, তাদের নিজ দেশের সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিতে হবে।”
নথিতে আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র “অসাধারণ পরিস্থিতিতে” কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা পৃথকভাবে যাচাই-বাছাই করবেন, বিদেশে প্রচলিত ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়।
সংস্থাটি অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেউ এই প্রশাসনিক সুবিধার জন্য যোগ্য কিনা।
বর্তমান আইনে, বিশেষ করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২৪৫(এ) ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা প্যারোলে এসেছেন, তিনি কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিবেচনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই আইনকে আরও সীমিতভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত। প্রশাসনের মতে, অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার বদলে বিদেশে গিয়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই হওয়া উচিত মূল নিয়ম।
ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, “আমরা আইনের মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাচ্ছি, যাতে অভিবাসীরা সঠিকভাবে আমাদের দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা অনুসরণ করে।”
তিনি আরও বলেন,“এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে থাকা কোনো ব্যক্তি যদি গ্রিনকার্ড চান, তাহলে তাকে সাধারণত নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে, যদি না কোনো অসাধারণ পরিস্থিতি থাকে।”
তার মতে, এই নীতি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আইনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিচালিত হতে সহায়তা করবে এবং আইনের ফাঁক ব্যবহারের প্রবণতা কমাবে।
তিনি বলেন,“যখন অভিবাসীরা নিজ দেশ থেকে আবেদন করেন, তখন যাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান হয় এবং পরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান, তাদের খুঁজে বের করা ও অপসারণের প্রয়োজন কমে যায়।”
নতুন এই নীতিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই অভিবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কার্যকর হলে অস্থায়ী ভিসায় থাকা হাজারো মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
