নিউইয়র্কে ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:১২ এএম, ২৮ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্মীয় নিপীড়ন, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএ ইনক’ (ডব্লিউএইচআরডি), ‘পেট্রিয়টস অব বাংলাদেশ’, ‘ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি’ এবং ‘ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড’ নামের সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।
ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুস সোবহানের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডব্লিউএইচআরডির সভাপতি শাহ শহীদুল হক। তিনি বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘উই আর দ্য পিপলস’ এর জ্যাকব মিল্টন বলেন, “গণহত্যা এবং পদ্ধতিগত নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের সমান মর্যাদা, সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।”
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের ওপর নির্যাতন ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। আমরা বিজেপি সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং মোদি সরকারের কাছে মুসলমানদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
সমাবেশে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবরিনা শেখ সাম্প্রতিক সময়ে রামিসা আখতার নামের এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পেট্রিয়টস অব বাংলাদেশের প্রধান বক্তা আজিজুর রহমান এবং বক্তা আব্দুল আলিম বিশ্ব দরবারে ভারতের এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘ ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন প্রফেসর শেখ মিজান, অ্যাক্টিভিস্ট রহমতুল্লাহ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট হাজি আনোয়ার লিটন, তরিকুল হোসেন বাদল, সারোয়ার আহমেদ, তাজকের আলী (ব্রঙ্কস) এবং দিপন গাজী। এছাড়া কর্মসূচিতে রেজাউল করিম, আবুল বাতেন, করিম তুতুল, আল আমিন ও রইছ আলীসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
