আপস্টেট নিউইয়র্কে প্রচারসভায় প্রতিবাদ, ব্যাপক উত্তেজনা
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১০:০৪ এএম, ২৭ মে ২০২৬ বুধবার
আপস্টেট নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারধর্মী অনুষ্ঠানে এক প্রতিবাদকারী বক্তব্যের মাঝখানে বাধা দিলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ওই প্রতিবাদকারীকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। এ সময় উপস্থিত ট্রাম্প-সমর্থকরা “ইউএসএ, ইউএসএ” স্লোগানে ফেটে পড়েন।
ঘটনাটি ঘটে নিউইয়র্কের রকল্যান্ড কমিউনিটি কলেজে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণার প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটিতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বক্তব্য দিচ্ছিলেন অর্থনীতি, করনীতি ও নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। তবে তার বক্তৃতার মাঝপথে একজন প্রতিবাদকারী স্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠান ব্যাহত করার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার সময় ট্রাম্প মঞ্চ থেকে ব্যঙ্গ করে বলেন, “ টেক হিম হোম টু মম্মি”। এরপরই সমর্থকদের মধ্যে হাসি, করতালি এবং “ইউএসএ” স্লোগান শুরু হয়।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ আপডেটে বলা হয়, যুব-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ক সংগঠন সানরাইজ মুভমেন্ট এই প্রতিবাদের দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-ডিপোর্টেশন নীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে সমাবেশে বাধা দেয়। একজন প্রতিবাদকারী পরিবার বিচ্ছিন্নতা ও আইস নিয়ে স্লোগান দেন, আরেকজন “ট্রাম্প ইজ অ্যা ওয়ার ক্রিমিনাল” লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
এদিনের বক্তব্যে ট্রাম্প নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস, কনজেশন প্রাইসিং, ভোটার আইডি আইন, অপরাধ এবং জাতীয় রাজনীতির নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানটির মূল ফোকাস অর্থনীতি হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প বক্তৃতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুতে চলে যান।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রকল্যান্ড কাউন্টির সমাবেশে ট্রাম্প গভর্নর হোকুলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা চান কিন্তু প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ম্যানহাটনের কনজেশন প্রাইসিং নীতির বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের মতো ডেমোক্র্যাট-অধ্যুষিত রাজ্যে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মাইক ললারের আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় রিপাবলিকানরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সরাসরি উপস্থিতি রক্ষণশীল ভোটারদের উজ্জীবিত করতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বলছে, ট্রাম্পের নীতি অভিবাসী পরিবার, জলবায়ু ও পররাষ্ট্রনীতিতে গভীর সংকট তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে আপস্টেট নিউইয়র্কের এই সমাবেশ আবারও দেখিয়ে দিল, ট্রাম্পকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতি এখনো তীব্র মেরুকরণে আবদ্ধ। একদিকে তাঁর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও জাতীয়তাবাদী স্লোগান, অন্যদিকে প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভÑ দুই মিলে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্যাথি হোকুলকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। আপস্টেট নিউইয়র্কে রাজনৈতিক এ সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট গভর্নর হোকুলকে উদ্দেশ করে বলেন, “ইউ বেটার ওয়াচ ইউরসেলফ, ক্যাথি”Ñ অর্থাৎ, “ক্যাথি, আপনাকে সাবধান থাকতে হবে।”
সমাবেশে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে নিউইয়র্কে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী উত্থান বা “রেড ওয়েভ” আসতে পারে। তিনি বিশেষভাবে নাসাউ কাউন্টিতে রিপাবলিকানদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, “নাসাউ কাউন্টিতে কোনো রিপাবলিকান জেতে না। কিন্তু তিনি লড়েছেন এবং জিতেছেন।”
এরপরই ট্রাম্প সরাসরি হোকুলকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনার সামনে নির্বাচন আছে। বড় নির্বাচন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়; বরং নিউইয়র্কে রিপাবলিকান প্রভাব বাড়ানোর কৌশলগত বার্তা। যদিও নিউইয়র্ক ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপরাধ, কর, অভিবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকানরা কিছু এলাকায় প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সমর্থকদের আরও সক্রিয় করতে তাঁর বক্তব্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। তাঁদের দাবি, নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটদের জনসমর্থন এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ট্রাম্পের “রেড ওয়েভ” মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ।
