ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলকারীসহ নিহত ৫
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৫৮ পিএম, ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার
ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরে ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে বন্দুক হামলার তিনজন নিহত হয়েছেন। পরে দুই কিশোর হামলাকারী ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভেলাসকেজকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাতে মোট ৫ জন নিহত হয়। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ বা হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। গত সোমবার বিকেলে সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি, ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, দুই কিশোর বন্দুকধারী মসজিদের বাইরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন মসজিদের নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ ও দুইজন মুসল্লীø। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ওই নিরাপত্তাকর্মী বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
পুলিশ জানায়, হামলার পর দুই বন্দুকধারী একটি গাড়িতে পালিয়ে যায়। কয়েক ব্লক দূরে তারা আরেকজন ল্যান্ডস্কেপ কর্মীর দিকে গুলি করে, যদিও তিনি অক্ষত থাকেন। পরে শহরের হ্যাটন স্ট্রিট এলাকায় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির ভেতর দুই হামলাকারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আত্মহত্যা করেছে। পুলিশের তথ্যমতে, হামলাকারীদের বয়স ১৭ এবং ১৯ বছর। তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ স্পষ্ট করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের লক্ষ্য করে কোনো গুলি চালায়নি।
ঘটনার সময় মসজিদ কমপ্লেক্সে শিশুদের ক্লাস চলছিল। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর অধীনে পরিচালিত আল রশিদ স্কুলে আরবি ভাষা, ইসলামিক স্টাডিজ এবং কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। স্কুলটিতে পাঁচ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।
হামলার সময় মসজিদে থাকা শিশুদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। টেলিভিশন সম্প্রচারিত আকাশপথের ভিডিওতে দেখা যায়, এক ডজনেরও বেশি শিশু হাত ধরে মসজিদের পার্কিং এলাকা থেকে বের হয়ে আসছে এবং চারপাশে অসংখ্য পুলিশ গাড়ি মোতায়েন রয়েছে। স্কট ওয়াহল বলেন, সব শিশু নিরাপদ আছে। এই মুহূর্তে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারানোর খবর পাচ্ছেন, আমাদের হৃদয় তাদের সঙ্গে রয়েছে। তিনি জানান, জরুরি ফোন পাওয়ার মাত্র চার মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এরপর ফিফটি থেকে হান্ড্রেড জন কর্মকর্তা অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন।
সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ইমাম তাহা হাসসানে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো অত্যন্ত জঘণ্য ও নিন্দনীয় কাজ। মানুষ এখানে নামাজ পড়তে আসে, উদযাপন করতে আসে, শিখতে আসে। শুধু মুসলমান নয়, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষও এখানে আসেন। আমরা সবসময় আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে কাজ করি। এমন ঘটনা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। ইমাম তাহা হাসসানে বলেন, দেশজুড়ে এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য মানুষ সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে আমরা সব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং শহরের সব উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
