শুক্রবার   ২২ মে ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩৩   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

লাল-সবুজের পতাকায় বাংলাদেশ ডে প্যারেড

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:৫৩ পিএম, ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার


 
নিউইয়র্কের বিশাল একালাজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাংলাদেশের পতাকায় ছেয়ে যায় প্যারেড গ্রাউন্ড। লাখ বাঙালির প্রাণের উচ্ছ্বাস, দেশাত্মবোধ, সংস্কৃতির বন্ধনকে সামনে রেখে গত ১৭ মে রোববার জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬’। এদিন সকাল থেকেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, প্রবীণসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ যোগ দেন এই আয়োজনে। রাস্তাজুড়ে ছিল লাল-সবুজের পোশাক, ঢাক-ঢোল, ব্যানার, ফেস্টুন, বাংলা গান আর উৎসবের আমেজ। বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়।
জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ), হিউম্যানিটি এম্পাওয়ারমেন্ট রাইটস এবং ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এই প্যারেডের আয়োজন করে। গরম আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাঙালিয়ানায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ ডে প্যারেডে। বাংলাদেশ ডে প্যারেডটি বাংলাদেশি অধ্যুাষিত জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত হয়। জ্যাকসন হাইটসের ৬৯ স্ট্রিট থেকে এই প্যারেড শুরু হয় এবং ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। নানা রঙের পোস্টার, বাংলা নববর্ষের কার্টুন, নৃত্য, সংগীত, ঢাকঢোল সবকিছুর আয়োজন ছিল। এবারের বাংলাদেশ ডে প্যারেডে ব্যাপক সংখ্যক সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। মানুষের রঙিন উপস্থিতি, রঙিন উপস্থাপন পুরো এলাকাকে রাঙিয়ে তোলে। আনন্দে গানে, নৃত্যে- ঢাকঢোলে যখন প্যারেড এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল। হৃদয়ে ধারণ করা বাংলাদেশটি যেন চোখের সামনে ফুটে ওঠে। প্যারেডে মূলধারার রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও নায়ক নায়িকা এবং শিল্পীরা আসেন। তারা যখন রাস্তা অতিক্রম করছিলেন, তখন ভিন দেশিরা তাদের উৎসাহিত করছিলেন। 
প্যারেডের উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আজকাল সম্পাদক লায়ন শাহ নেওয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর প্রেসিডেন্ট শাকিল মিয়া, ঢাকা জেলা সমিতির সভাপতি দুলাল বেহেদু, সাধারণ সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন, নূরুল আমিন, লায়নস ক্লাবের সভাপতি জেফ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা তপন, লায়নস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, জেবিবিএর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিজামুল হক, কম্যুনিটি অ্যাকটিভিস্ট নাসির আলী খান পল, আইনবিশেষজ্ঞ রফিক আহমেদ, মনির হোসেন, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, প্রবাসী মতলব সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবীর রতন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী আজম, বর্তমান সভাপতি আবু তাহের, কামাল হোসেন মিঠু, আরিফ হোসেন, আবুল কাশেম, আহসান হাবিব, জাবেদ উদ্দিন, আবুল কাশেম, খলিলুর রহমান, মামুন মিয়াজি, এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি, সাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালি, শিল্পী কামরুজ্জামান বকুল, আফতাব জনি, শাহ মহাবুব, মঈনুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ অফিসার এরশাদুল বারী, আহসান হাবিব, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি, সৈয়দ এনায়েত আলী, খুলনা সমিতির সভাপতি ওয়াহেদ কাজী এলিন, বক্সার সেলিম, মোহাম্মদ সোহেল হোসেন, মূলধারার রাজনীতিবিদ আমিন মেহেদী, আনিসুল কবীর জাসির, নওশাদ হোসেন, আব্দুর রশিদ বাবু, নূরে আলম জিকো, অরিফুর রহমান, আবুল কাশেম চৌধুরী, মজিবর রহমান, রেজওয়ান হক, লিটন আহমেদ, মাবহবুবুর রহমান, দেওয়ান কাউছার, সওয়োর খান বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, অ্যাসেম্বলিম্যান প্রার্থী শামসুল হক, হায়রাম মনসুরাত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও লায়ন মফিজুর রহমান, বগুড়া সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জাকির হোসেন বাচ্চু, এস এম সোলায়মান পাটোয়ারি, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, শো টইমের খায়রুল কবীর খোকন, মনিরুল ইসলাম, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম, জহির মোল্লা, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের সদস্য রুহুল আমিন সরকার, ডা. বর্ণালী হাসান, মূলধারার রাজনীতিবিদ দিলীপ নাথ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন মজুমদার, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সভাপতি কাজী সেলিম খান, সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।
প্যারেড শুরুর আগে জ্যাকসন হাইটসে ৩৭ অ্যাভিনিউ ও ৬৯ স্ট্রিটের বিশাল প্রান্তরে জড়ো হতে থাকেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের কারো হাতে ছিল বাংলাদেশের পতাকা, কারো হাতে ছিল ব্যানার, আবার কেউ এসেছিলেন ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি, শাড়ি কিংবা লোকজ পোশাকে। অনেকেই শিশুদের সাজিয়েছিলেন লাল-সবুজের রঙে। ছোট ছোট শিশুদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। এরপর বেলা ১২টার দিকে প্যারেড যাত্রা শুরু করে ৩৭ অ্যাভিনিউ হয়ে ৮৭ স্ট্রিটের দিকে। 
বাংলাদেশ ডে প্যারেডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন নিউইয়র্কে মূলধারার নেতৃবৃন্দ। প্যারেডে যোগ দিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং ও টম সুজি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, অ্যাসেম্বলি মেম্বার ক্যাটালিনা ক্রুজ ও স্টিভেন রাগা, সিটি কাউন্সিল মেম্বার শেখর কৃষ্ণান, সিনেট প্রার্থী হাইরাম মসসেরাত প্রমুখ। তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। 
বাংলাদেশ যে প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম. আজিজ এবং ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। প্যারেডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্যারেড কমিটির আহ্বায়ক, জেবিবিএ’র সভাপতি ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ, প্যারেড কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব, জেবিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, চিফ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন আব্দুল কাদের শিশির, ম্যানেজিং পার্টনার ছিল ফয়সাল আজিজ, প্যারেড মার্শাল আব্দুস সোবহান এবং চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফেমড রকি। 
বাংলাদেশ ডে প্যারেডে আরো অংশ নেয় সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব, বাংলাদেশি আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা), জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী, প্রবাসী মতলব সমিতি, বগুড়া সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক, প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় সমিতি, বরিশাল সিটি ও সদর সোসাইটি ইউএসএ, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ, পাবনা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন, গ্রেটার খুলনা সোসাইটি, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি, নবাবগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশন, দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, নবাবগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইন্ক, ফার্স্ট এইড হোমকেয়ার, আমেরিকান বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প (এবিসিএইচ), ফায়ার ডিপার্টমেন্ট নিউইয়র্কের (এফডিএনওয়াই) ফিনিক্স সোসাইটি, নিউইয়র্ক সিটি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট, ইয়থ ফর দ্য ইয়ুথ প্রমুখ সংগঠন। অ্যাসেম্বলি প্রার্থী শামসুল হক ও স্টেট সিনেটর প্রার্থী হাইরাম মনসেরাত ও তাদের সমর্থকেরা প্যারেডে স্বতস্ফূর্ত অংশ নেন। বহু বাংলাদেশি পরিবার নানা রঙের পোশাকে প্যারেড অংশ নেন।