শনিবার   ১৬ মে ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩   ২৯ জ্বিলকদ ১৪৪৭

একমন্ত্রী যেতেই আরও দুই মন্ত্রী নিউইয়র্কে

হাসান মাহমুদ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:১৪ এএম, ১৬ মে ২০২৬ শনিবার



বাংলাদেশের প্রবাসি কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিউইয়র্কে তার সপ্তাহব্যাপি বর্ণাঢ্য সফর শেষ করে চলে গেছেন বলে জানা যায়। জাতিসংঘে বক্তব্য রাখার পর তিনি নিউইয়র্ক প্রবাসি ‘প্রভাবশালী সিলেটিদে’র গন্ডিতে আবদ্ধ ছিলেন বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। তিনি চলে যাবার  পরদিনই বাংলাদেশের আরও দুই মন্ত্রী নিউইয়র্কে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শামা ওবায়েদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে এবারই প্রথম নিউইয়র্ক সফর করছেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এটি শাটল ভিজিট। কারণ জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের সভাপতি প্রার্থী হয়ে অবিরাম ছুটছেন কূটনীতিক মহলে। ভারত, তুরস্ক, ইথিওপিয়া, চীন, সাইপ্রাস হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশ যদি আসন্ন ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হতে পারে তা হলে এটি দেশের জন্য অনেক বড় মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। নিউইয়র্কে কূটনীতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক, প্রচারণা এবং কৌশলগত  অবস্থান নিয়ে তিনি এগুচ্ছেন। ‘ইনফরমাল ইন্টার‌্যাকটিভ ডায়লগে’ অংশ নেন ড. খলিলুর রহমান। একই সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের ভিশন ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাইপ্রাসের প্রার্থী ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে ২০১৭ সালে গৃহীত এক প্রস্তাবের আওতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশের জন্য অবদান রাখেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে মনোনয়ন দেন।
জাতিসংঘে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। তিনি তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। সহকারী মহাসচিব খিয়ারি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ড. খলিলুর রহমানের প্রেজেন্টেশনের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে সফর শেষে শামা ওবায়েদ মরক্কো মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্স শেষে ঢাকায় ফিরবেন বলে জানা যায়।