শনিবার   ০৯ মে ২০২৬   বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৭

তারেক কূটনীতির উত্তাপে বরফ গলেনি মোদিদের

হাসান মাহমুদ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৫:৫৩ এএম, ৯ মে ২০২৬ শনিবার


   

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এখন তিনদিনের সরকারী সফরে চীন রয়েছেন। আজ শুক্রবার, ৮ মে তাঁর দেশে ফেরার কথা থাকলেও ঢাকায় না গিয়ে আবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সফরে আসছেন বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই মাস বয়সি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালিন ড. ইউনূস সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। সেখান থেকে তারেক রহমান তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। দুই আমলেই তিনি ভারতে সরকারী সফর করেছেন বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত নির্ভরশিল ব্যক্তি অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠক সারেন প্রতিবার। ঢাকার কূটনীতির উত্তাপে ভারত সরকারের হার্ট  হিসেবে খ্যাত ‘সাউথ ব্লকে’র বরফ গলেনি বলে গুঞ্জন চলছে। তারেক রহমানের সরকারে এবার দায়িত্ব পেয়েই তিনি সফর করেন- সৌদি আরব, ভারত, ইথিওপিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, চীন, মারিশাস। যুক্তরাষ্ট্রে সফর করেছেন কয়েক দফা। তার এসব সফরের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয় ভারতে তিন দিনের সরকারী সফর। বাংলাদেশ এটিকে গুডউইল ভিজিট বললেও ভারত সরকার সরকারী সফর হিসেবে ফলাও করে প্রচার করেছে। সফরের মূল ভিত্তি ছিল দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক জোরালো করা, সুসম্পর্ক, ভিসা ইস্যু। বৈঠকে আলোচ্য হিসেবে থাকা বিষয়ে ভারত কোন কিছুই সম্পন্ন করেনি। সম্প্রতি বাংলাদেশে চীনের সহযোগিতায় ড্রোন নির্মাণ ফ্যাক্টরি করার কাজ শুরু হলে ভারত এ বিষয়ে আগে থেকেই নেতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছিল। মনে করা হচ্ছে, দু’দেশের সম্পর্ক কতটুকু মসৃণ হয়েছে তার জন্য ভারত সরকার জবাব দেবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পরপর। ভারত সরকার বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তের কাছে বিমানবন্দর চালু করা হোক তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ড্রোন নির্মাণের কারখানাও করা হচ্ছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে। সবমিলিয়ে ভারত বাংলাদেশে তার নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করেছে বলে জানা যায়।
নির্বাচনের পর দু’দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক মজবুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিজিএফআই’ নতুন প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ ভারত সফর করেন। তিনি দিল্লীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর শীর্ষ ব্যক্তিসহ ‘সিডিএস’ এবং অজিত দোভালের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ঢাকায় ফেরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করে ডিজিএফআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল হিসাবে নিযুক্ত করার পরপর প্রথম বিদেশে ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ হিসেবে গত ১ মার্চ তিনি নয়াদিল্লিতে যান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার সফরের পরও ভারত সরকারের ‘সাউথ ব্লকে’র মধ্যে বাংলাদেশ পলিসি নিয়ে উল্লেখযোগ কোন পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ।