জামিল লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানো হচ্ছে
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৫২ এএম, ২ মে ২০২৬ শনিবার
ফ্লোরিডার টাম্পায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় গত ২৮ এপ্রিল নিহত জামিল লিমনের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে জামিলের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই কাজের জন্য ২ লাখ ডলার সহযোগিতা পেয়েছে। বৃষ্টির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো আপডেট নেই। ২৬ এপ্রিল রবিবার পিনেলাস কাউন্টিতে ইন্টারস্টেট ২৭৫ ও ৪র্থ স্ট্রিট নর্থের কাছের জলপথ থেকে মানবদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হয়েছে। সেটি বৃষ্টির কিনা তা এখনো মেডিকেল এক্সামিনার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। পরিবার সেই রিপোর্টের অপেক্ষায়।
মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় এই পুরো প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। কনস্যুলেট বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরের আগে কনস্যুলেট জামিল লিমনের পরিবারের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়েছে। বাংলাদেশে শোকগ্রস্ত পরিবার এই সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন।
মুসলিম রীতি অনুযায়ী মরদেহের পরবর্তী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। জামিল একজন মুসলিম ছিলেন এবং পরিবার চাইছেন ইসলামি নিয়ম মেনেই তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হোক। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক মরদেহ পরিবহনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ডেথ সার্টিফিকেট, ইমব্যামিং এবং কনস্যুলার ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে এই সময় লাগে।
স্মরণ করা যাক, জামিল লিমনের মরদেহ ২৪ এপ্রিল ভোরে টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর কাছে ভারী কালো ট্র্যাশ ব্যাগের ভেতরে পাওয়া গিয়েছিল। পিনেলাস কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে ‘একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত’ এবং মৃত্যু হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত। তার রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহকে প্রথম শ্রেণির দুটি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সে এখন জামিনবিহীন কারাগারে বন্দি।
নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডাসহ আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে জামিলের পরিবার এখন ছেলেকে শেষবারের মতো কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় আসা জামিল লিমন পিএইচডির পথে ছিলেন। সেই পথ এভাবে শেষ হবে তা কেউ ভাবেননি। তার মরদেহ যখন দেশে ফিরবে, তখন একটি পরিবার পাবে তাদের হারানো সন্তানকে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগটুকু অন্তত।
