জামাইকায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ইমাম গ্রেপ্তার
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৪৯ এএম, ২ মে ২০২৬ শনিবার
নিউইয়র্কের জামাইকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার বহুল পরিচিত ‘বেলাল মসজিদে’র একজন শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনওয়াইপিডির ডিটেকটিভ এবং কুইন্স চাইল্ড অ্যাবিউজ স্কোয়াড খবর জানার পর দ্রুত সেখানে যায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মসজিদের ওই শিক্ষকের নাম তাজুল ইসলাম (৫৫)। পুলিশের দেয়া তথ্য থেকে ডেইলি নিউজ, পিক্স টু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে কুইন্সের একটি মসজিদে ১০ বছর বয়সী একজন শিশুকন্যাকে বারবার তার শরীরে স্পর্শ করার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং পুলিশ সন্দেহ করছে যে আরও শিশু এখানে তার শিকার হয়ে থাকতে পারে’। কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, অভিযুক্ত তাজুল ইসলামকে ১২১-০৩ সাটফিন ব্ললেবার্ডের বিলাল মসজিদের ভিতরে একাধিকবার মেয়েটিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ফৌজদারি অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত জামাইকাতে এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তাজুল ইসলামকে চারটি পৃথক ঘটনায় মেয়েটির স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। এনওয়াইপিডি তথ্য অনুসারে, সোমবার কুইন্স চাইল্ড অ্যাবিউজ স্কোয়াড সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে যখন ভুক্তভোগী ঘটনাটি তাদেরকে জানায়। তাজুলের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কমিউনিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাজুল ইসলাম সড়ক পথে আসার পর অ্যাসাইলাম আবেদন করে বসবাস করছেন।
৫৫ বছর বয়সী তাজুল ইসলামকে সোমবার, ২৭ এপ্রিল রাতে কুইন্স চাইল্ড অ্যাবিউজ স্কোয়াডের গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করে এবং জামাইকার ১১৩ তম প্রিসিন্টে তার ‘মসজিদ বিলাল’ কুইন্স ইসলামিক সেন্টারের ভিতরে ১২১-০৩ সাটফিন ব্ললেবার্ডের ভিতরে দুইজন ১০ বছর বয়সী মেয়েসহ একাধিক ভুক্তভোগী জড়িত। তাজুলকে পরের দিন কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চারটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, চারটি জোরপূর্বক স্পর্শের অভিযোগ এবং একটি শিশুর জীবন বিপন্ন করার চারটি অভিযোগ আনা হয়।
তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়ার আবেদন করলে ২৫,০০০ মার্কিন ডলার বন্ডে জামিনে মুক্তি পান। আজ শুক্রবার তাজুলকে আদালতে হাজির হতে পারে বলে জানা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার তার অ্যাটর্নি এবং মসজিদ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ মনে করছে যে, আরও ভুক্তভোগী এখানে থাকতে পারে এবং তদন্তে জনসাধারণের সাহায্য চাওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
