বৃহস্পতিবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৯ ১৪৩৩   ০৬ জ্বিলকদ ১৪৪৭

ট্রাম্পের খামখেয়ালি মন্তব্যই শান্তির পথে প্রধান বাধা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:৩৬ এএম, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তেহরানকে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত করছে। যে কোনো বিষয়ে তেহরানকে আরও বেশি সন্দিহান করে তুলছে ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায়ই ইরানকে তাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ফলে ইরানের শীর্ষ নেতারা উত্তেজনাপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে বা কথা বলতে বাধ্য হন। এতে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। বুধবার গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে এসব বলা হয়। 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ালেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা পৌঁছাতেও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে মাঝে মাঝেই ট্রাম্প বিভিন্ন খামখেয়ালিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, যা সমাধানের কোনো পথ দেখাচ্ছে না। বরং তা শান্তিচুক্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।  

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেন ট্রাম্পসহ তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এমনও দিন গেছে, শুধু ট্রাম্প একাই ইরানকে নিয়ে সাতটি মন্তব্যও করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যতই জোর দিয়ে বলুক, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের জবাব দেবে না; তবে সব মন্তব্যকে তারা উপেক্ষাও করতে পারে না। ইরানকে কিছু কিছু মন্তব্যের জবাব দিতেই হয়। প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্পের অধৈর্য ও রূঢ় কূটনৈতিক শৈলী বর্তমানের সামরিক সংকট সমাধানের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, অবরোধ আরোপ করে ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে নিজের কল্পনামাফিক সাজাতে চান। তিনি আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চান। তিনি নতুন করে যুদ্ধবাজ মনোভাবের ন্যায্যতা দিতে চাচ্ছেন। আমরা হুমকির ছায়ায় আলোচনা গ্রহণ করি না। গত দুই সপ্তাহে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন তাস উন্মোচন করার জন্য প্রস্তুত হয়েছি।’

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জেন অস্টেনের উদ্ধৃতি দিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সর্বজনস্বীকৃত সত্য হলো, একটি বৃহৎ সভ্যতার অধিকারী কোনো একক দেশ হুমকি ও বলপ্রয়োগের মুখে আলোচনা করবে না।

ট্রাম্পকে যেমন তাঁর খিটখিটে রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী এবং শেয়ারবাজার সামলাতে হয়, তেমনি ইরানের নেতৃত্বকেও যুক্তরাষ্ট্রের নানা দাবির (পরমাণু কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম) মুখে পাল্টা জবাব দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতকে আশ্বস্ত করতে হয়। 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির টুইটে বলা হয়েছিল, ‘ইরান হরমুজ প্রণালির কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।’ ইরান আশা করেছিল, তেহরানের বক্তব্য ট্রাম্প ইতিবাচকভাবে নেবেন এবং মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবেন। কিন্তু ট্রাম্প ইরানকে খোঁচা দেন এবং বলে বসেন, ‘ইরানের পরাজয় ঘটে গেছে।’  

আরাঘচির ওই বক্তব্যের পাল্টা জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা (ইরান) চায় আমি অবরোধ তুলে দিই। ইরানিরা মরিয়া হয়ে তা চাচ্ছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলছি না। আরেকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সবকিছুতে রাজি হয়েছে। বিশেষ করে তারা হরমুজ প্রণালি আর কখনও বন্ধ না করতে রাজি হয়েছে।’ এর এক দিন পর ইরান প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ট্রাম্প বারবার ইরানের পরিকল্পনাকে অবমূল্যায়ন করেছেন।

ঘানার ইরানি কূটনৈতিক চৌকি গত মঙ্গলবার উল্লেখ করেছে, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ট্রাম্প অনেক বেশি পোস্ট করেছেন। হরমুজ বন্ধ করার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানান, আবার হুমকিও দেন। চীনকে দোষারোপের পাশাপাশি প্রশংসাও করেন। ইরানের সঙ্গে চুক্তির প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বোমা ফেলার প্রতিশ্রুতিও দেন। 

দূতাবাসটি আখ্যা দিয়েছে, ‘ট্রাম্প নিজেই একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট গ্রুপ।’ এ জন্যই বোধ হয় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ ট্রাম্প সম্পর্কে বলেছেন, ‘তিনি খুব বেশি কথা বলেন।’