শনিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৪ ১৪৩৩   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

বাংলাবর্ষ উদযাপনে একখন্ড বাংলাদেশ

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৫ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার


 
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে নিউইয়র্ক সিটি ছিল বাঙ্গালীময়। বিভিন্ সংগঠন ৩ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বৈশাখী উৎসব পালন করে। এসব আয়োজনে ছিল আনন্দধ্বনি, ড্রামা সার্কেল, ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’, সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ ক্লাব ও বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ, এবিসিএইচ ও মনিকগঞ্জ জেলা সমিতি।  নিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও বাংলা নববর্ষ যেন বদলে দিয়েছিল শহরে রূপ। বিশ্বের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারের ঝলমলে আলোর নিচে আর বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলা বসে যায়। 
‘এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’
টাইমস স্কয়ারে বর্ষবরণ : নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইম স্কয়ারে গত ১১ এপ্রিল শনিবার যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর আয়োজনে এবং নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবে প্রবাসী বাঙালি, আন্তর্জাতিক অতিথি, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও মূলধারার মার্কিন রাজনীতিকদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক বৈশ্বিক মিলনমেলা।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৭টি বর্ণিল পর্বে সাজানো এই আয়োজন নিউইয়র্কে বাঙালির সাংস্কৃতিক উপস্থিতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। দিনভর গান, নৃত্য, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সম্মিলনে টাইমস স্কয়ার মুখরিত হয়ে ওঠে বাঙালির প্রাণের উচ্ছ্বাসে।
উৎসবের সূচনা হয় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয় শুভেচ্ছা বার্তা ও ভিডিও। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিকরা, যাদের শুভেচ্ছা বার্তা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশেষ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দিন আবুল কালাম-এর জন্মশতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানকে আবেগঘন সূচনায় নিয়ে যায়।
উৎসবে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে নেপাল, লাওস ও থাই কমিউনিটির শিল্পীদের অংশগ্রহণ। বহুসাংস্কৃতিক এই পরিবেশনা বাংলা নববর্ষকে এক বৈশ্বিক সম্প্রীতির মঞ্চে রূপ দেয়। একইসঙ্গে ‘ছয় ঋতু’র নান্দনিক উপস্থাপনায় বাংলার প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের চিত্র ফুটে ওঠে।
বিকেলে নাটক, মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকগান ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের ধারাবাহিক পরিবেশনা উৎসবকে নতুন মাত্রা দেয়। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রার সময় টাইমস স্কয়ার যেন ঢাকার চারুকলার রঙিন প্রতিরূপে পরিণত হয়।
সন্ধ্যার পর শিশুদের ‘শতকণ্ঠে বর্ষবরণ’ এবং সিনিয়র শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে যেমন ভবিষ্যতের আশা ধ্বনিত হয়, তেমনি অভিজ্ঞ শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে প্রবাস জীবনের গভীর অনুভূতি।
পরদিন নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ডাইভারসিটি প্লাজায় দ্বিতীয় দিনের মত উৎসবে মেতে ওঠেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 
‘এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ দুদিনব্যাপী বর্ষবর্ষণের অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক হয়ে ওঠে বাঙালিদের সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। 
আনন্দধ্বনি-টিবিএন 
 প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাকে অটুট রেখে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দধ্বনি’-এর আয়োজনে গত ১২ এপ্রিল রোববার কুইন্সের কুইন্সবোরো পারফরমিং আর্টস সেন্টারে (কিউপিএসি) অনুষ্ঠিত হলো বাংলা বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ ১৪৩৩। এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল কিউপিএসির বিশাল মিলনায়তন। 
বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আনন্দধ্বনি-টিবিএ২৪, যেখানে সহযোগিতায় ছিল কুইন্স সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইন্ক। পুরো আয়োজনটি পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন সংগঠনের পরিচালক অর্ঘ্য সারথী শিকদার, যিনি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বর্ষবিদায়ের আবহে পরিবেশিত হয় কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীত। এরপর নতুন বছরের আগমনী বার্তা নিয়ে মঞ্চে পরিবেশিত হয় বৈশাখী গান ও নান্দনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জনপ্রিয় শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস তাঁর সুরেলা কণ্ঠে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। একইসঙ্গে ডা. সেজান মাহমুদসহ স্থানীয় শিল্পীরাও সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার করেন। আবৃত্তি করেন ডা. নাসরিন শাহানা, এমডি এবং সেতারে ঝড় তোলেন ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী। 
প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়, বরং নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আনন্দধ্বনির এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন- ‘আনন্দধ্বনি-টিবিএ২৪ বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার নেতৃতত্বে ছিলেন- চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক এবং কো-চেয়ারপারসন ডা. রাজজি সাহা রায় মুনমুন। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. শেখ মাহফুজুল হক, এমডি। কমিটিতে প্রধান সৃজনশীল সুহৃদ হিসেবে ছিলেন- মিথুন আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী আর পি দত্ত স্বপন এবং সম্মানিত গাইডেন্স হিসেবে দেবশীষ দেবনাথ। সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন- অর্ঘ্য সারথি সিকদার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে মেহের কবির। এছাড়াও সমন্বয়কারী ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন- সঞ্জিত কুমার ঘোষ, গৌতম কুণ্ডু, সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, টিটু আনাম, পারভেজ বারভুঁইয়া, সুবাস তালুকদার, সুজিত সাহা, সুজন সাহা, সুমন্ত বৈদিক, গোবিন্দ জি বানিয়া, জাকির হোসেন বাবু, সৈয়দ উদ্দিন, সুলতান বোহারি, জিয়াউর দেওয়ান, পারিজাত দাস, খালেদ আখতারসহ আরও অনেকে।  
এদিকে আনন্দধ্বনির এক ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে- ‘জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের এই ক্ষণে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যাশা করি এমন এক আগামীর, যা হবে অধিকতর মানবিক, শান্তিময় এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত। আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও লোকজ উত্তরাধিকার কেবল সংস্কৃতির বাহ্যিক অলংকার নয়; এগুলো আমাদের জাতিসত্তার অন্তর্নিহিত শক্তি, আমাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি। কিন্তু আজকের বিশ্ব এক গভীর সংকটকালের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। মানবসভ্যতার এই বিপন্ন সময়ে সংস্কৃতিও নিরাপদ নয়; আগ্রাসন কেবল ভূখণ্ড দখল করে না, তা মানুষের ভাষা, শিল্প, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের ওপরও আঘাত হানে।  যেখানে অস্ত্রের গর্জন প্রবল হয়, সেখানে প্রথমেই স্তব্ধ হয়ে যায় গানের কণ্ঠস্বর। যেখানে বিভেদের প্রাচীর উঁচু হয়, সেখানে ক্ষীণ হয়ে আসে মানবতার ভাষা। 
ড্রামা সার্কেল 
 নিউইয়র্কে পহেলা বৈশাখ মানেই প্রবাসী বাঙালির হৃদয়ে এক বিশেষ আবেগের নামÑআর সেই আবেগের অন্যতম ধারক ও বাহক ঐতিহ্যবাহী নাট্যসংগঠন ড্রামা সার্কল নিউইয়র্ক। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগঠনটি একটি অনন্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছে-পহেলা বৈশাখের দিনেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন। সময়ের সাথে সাথে অনেক আয়োজনের ধরন বদলালেও, পহেলা বৈশাখের দিনটিকে কেন্দ্র করেই উৎসব উদযাপনের এই ধারাবাহিকতা ড্রামা সার্কলকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে প্রবাসী সমাজে।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে  ১৪ এপ্রিল  মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখে উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত হলো ড্রামা সার্কল নিউইয়র্কের আয়োজনে বর্ষবরণ ১৪৩৩। বিকেল থেকেই রঙ-বেরঙের বৈশাখী সাজে সেজে শতশত প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। লাল-সাদা পোশাক, শাড়ি-পাঞ্জাবি আর বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যবাহী সাজে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ ধরা দেয় নিউইয়র্কের মাটিতে। অনুষ্ঠান শুরু হয় ঠিক সন্ধ্যা ৭টায় পান্তা-ইলিশ ভোজের মাধ্যমেÑযা পহেলা বৈশাখের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এই ভোজের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডা. দিলরুবা হোসেন ও আলী শিকদার। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই পান্তা-ইলিশ যেন সকলকে ফিরিয়ে নেয় শিকড়ের টানে, গ্রামের উঠোনে, বাংলা নববর্ষের চিরচেনা স্মৃতিতে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয় নববর্ষের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক পর্ব। 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি নার্গিস আহমেদ এবং বর্তমান সভাপতি আবীর আলমগীর। তারা তাদের বক্তব্যে ড্রামা সার্কলের দীর্ঘ পথচলা, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে এই ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্কের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, উৎসব গ্রুপের প্রধান রায়হান জামান, ঠিকানার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, বাংলা পত্রিকা ও টাইম টিভির সম্পাদক আবু তাহের, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, সাগর ফাউন্ডেশনের প্রধান শাহাবুদ্দিন সাগর, কাহিনীক-এর সিইও ইফতেখার ইভান এবং এফএমএস গ্রুপের প্রধান হোসেন জব্বার শৈবাল। 
সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল বৈচিত্র ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা। সংগীত পরিবেশন করেন চন্দন চৌধুরী, লেমন চৌধুরী, কান্তা আলমগীর, ফারহানা তুলি, জাফরিন আবেদীন, ফারহানা মমো, আনোয়ারা আনা ও শায়ান। নৃত্য পরিবেশন করে অন্তরা সাহা এবং নীলা ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ফারুক আজম।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন আদিবা জহির ও আবার আলমগীর। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, আন্তরিকতা এবং মিলনমেলার আবহ। 
সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ নিউইয়র্ক 
 নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার জ্যাকসন হাইটসের ৩৭  রোড এবং ৭৬ ও এবং ৭৭ স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকায় দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ নিউইয়র্ক। 
দুপুর থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রবাসী বাঙালিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্ব, ছিল সঙ্গীত পরিবেশনা। এছাড়াও ছিল পান্তা-ইলিশ ও মিষ্টিমুখের আয়োজন। বিকেল ৫টায় জ্যাকসন হাইটসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
“শঙ্কা ও ভয়, বৈশাখ করবে জয়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় স্থানীয় শিল্পীরা বাংলা গান, নৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
বাংলাদেশ ক্লাব ও বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ
 নিউইয়র্কে বাঙালি প্রবাসীদের অন্যতম সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ ক্লাব ইউএসএস এবং বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ’র যৌথ উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে গত ১২ এপ্রিল রোববার টাইমস স্কয়ারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজনে ছিল বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত পরিবেশনা, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী নানা আয়োজন। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত হয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানান, যা বাঙালির ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আয়েজকরা জানান, প্রবাসে এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা গান, নৃত্য ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেন। এছাড়া ছিল ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিলনমেলার আবহ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন-জনপ্রিয় শিল্পী টিনা রাসেল, বিন্দুকণা, নাজু আখন্দ,  বাউল শিল্পী কালা মিয়া, মেলাল শাহ ও করিম হাওলাদার, রকশিল্পী আফতাব জনি, ত্রিণিয়া, স্বপ্নীল সজিব, ডিজে রাহাত প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করেন রাসেল ও অন্তু এবং মিথুন ড্যান্স একাডেমি। অনুষ্ঠানে তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়ক ইমন এবং মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা।