যিশুর সাজে ট্রাম্প: বির্তকের ঝড়
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:২৯ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
ট্রাম্প এআই দিয়ে বানানো একটি ছবি পোস্ট করে ব্যাপক সমালোচনার সন্মুখিন হয়েছেন। যেখানে তাকে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলার ভূমিকা যিশুরূপে দেখানো হয়। এই ছবি নিয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষোভের মুখে পড়েন ট্রাম্প। বির্তকের সৃষ্টি হয়। শেষমেশ তিনি ছবিটি সরিয়ে নেন, সঙ্গে দাবি করেন, ছবিতে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে নয়, তাকে নাকি একজন চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প পোপের সমালোচনা করা বন্ধ করেননি। মঙ্গলবার রাতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোপকে কটাক্ষ করেন তিনি। আর এসব কটাক্ষের জবাবে পোপ বলেছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘ভয় পান না’। তিনি যে ‘একা নন’, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পোপ।
অনেকেই মজা করে বলে আসছিলেন যে, ইরান যুদ্ধের ব্যর্থতা ঢাকতে হোয়াইট হাউজ হয়ত এপস্টেইন ফাইলকে সামনে নিয়ে আসবে।
মানুষের নজর ঘোরানোর এই কৌশল অবশ্য দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। গেল সপ্তাহে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প কোনো ধরনের প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি মূলত নিজেকে কেলেঙ্কারি থেকে দূরে রাখতেই এ বিষয়ে আলাপ তুলেছেন। কিন্তু তার সূত্র ধরে বিষয়টি আবার আলোচনা কেন্দ্রে চলে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক লিখেছে, একদিকে যখন এই আলাপ উঠছে, সেই সময় ইরান যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। হরমুজ প্রণালি এখনও তেহরানের নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্পর্শকাতর এই নৌপথে অবরোধ শুরু করেছেন, যার প্রভাবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে আরো।
সবকিছু মিলিয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থন ক্রমাগত কমছে। রিপাবলিকানরা আশঙ্কা করছেন, নভেম্বরে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই তাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এমন শঙ্কা তৈরি হওয়ার আরো কিছু কারণ রয়েছে। যেমন, হাঙ্গেরির নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ভিক্টর অরবানকে সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্প ভূরাজনৈতিক পুঁজি অনেকটাই নষ্ট করেছেন। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম দুটি ধর্মের অনুসারীদের তিনি ক্ষুব্ধ করে তুলেছেন।
ট্রাম্প দীর্ঘ দিন ধরে ভয় ধরানোর রাজনীতি করে আসছেন। তিনি একদিকে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিঃশর্ত আনুগত্য দাবি করেন; অন্যদিকে বিশ্বনেতাদের ওপর প্রভাব খাটাতে চান।
আটলান্টিকের বিশ্লেষণ বলছে, রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে কীভাবে পালানো যায়, সে ব্যাপারে ট্রাম্প বেশ দক্ষ। কিন্তু এবার তিনি এমন এমন সংকটে জড়িয়েছেন, যেগুলো থেকে বেরনোর স্পষ্ট কোনো পথ নেই। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধ ছিল ট্রাম্পের নিজের বেছে নেওয়া একটি সংঘাত। যদিও এই যুদ্ধ তার প্রত্যাশিত পথে এগোয়নি।
ট্রাম্প ভেবেছিলেন, এই যুদ্ধ হবে ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার মতো; কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কিন্তু দেড় মাস পরে এসে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গদি থেকে দেশটির শাসক গোষ্ঠীকে এতটুকু টলানো যায়নি। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হওয়া হরমুজ প্রণালি এখনও তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা এটিকে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার বানিয়েছে।
ট্রাম্প এটি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। কথা না শুনলে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। কিন্তু তেহরানকে ভয় দেখানোর কৌশল কোনো কাজে দেয়নি।
পোপের সঙ্গেও বিবাদে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পোপ লিও সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়ে খুব একটা মন্তব্য করেন না। কিন্তু কয়েক মাস ধরেই তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনায় সরব রয়েছেন। আবার অন্যান্য পোপের মতো তিনিও ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
পোপ ও মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিরোধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ক্যাথলিক নাগরিক ক্ষুব্ধ হতে পারেন, সেই ভয়ে প্রেসিডেন্টরা সাধারণত চুপচাপই থাকেন।
কিন্তু ট্রাম্প অন্যদের মতো নন; তিনি সমালোচনা সহ্য করেন না। গত রোববার তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল‘ এবং ‘উগ্র বামদের তোষণকারী’ হিসেবে মন্তব্য করেন।
