শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬   চৈত্র ১৩ ১৪৩২   ০৯ শাওয়াল ১৪৪৭

বট বাহিনীর নৃত্য, আমিনুলের তেল ও বিব্রত জাইমা

মনোয়ারুল ইসলাম

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৩৫ এএম, ২৮ মার্চ ২০২৬ শনিবার

মন্তব্য প্রতিবেদন

  

জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুল টিমের হয়ে ফুটবল খেলতেন। যুক্তরাজ্যের ফুটবল টিম ‘চেলসি’ বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও জনপ্রিয়। সারা বিশ্ব সহ যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরে শ্রেষ্ঠ খেলোয়ারদের হায়ার করে। তাদের মহিলা ও পুরুষ উভয় দলই রয়েছে। বয়স অনুসারে তাদের রয়েছে বিভিন্ন টিম। প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান চেলসির এমন একটি মহিলা দলে খেলবার সুযোগ পেয়েছিলেন কিনা। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কথা প্রকাশ্যে বা মিডিয়ায় বলা হয়নি। তবে জাইমা যে স্কুলের বিভিন্ন পর্যায়ে ফুটবল খেলতেন তার প্রমাণ রয়েছে। গোলকিপার হিসেবে খেলতেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের দাবি অনুসারে জাইমা স্কুল পর্যায়ের চেলসির টিমে খেলতে অফার পেয়েছিলেন। তাও তিনি বলেছেন তার পরিবারের সদস্যদের উদ্বৃতি দিয়ে। কিন্তু মিডিয়ায় এলো চেলসির টিমে খেলার অফার এর উপর। আমিনুল কখনোই দাবি করেননি চেলসির দলে খেলার। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় ভিন্নভাবে তা উপস্থপান করা হলো। জাইমার ছবি দিয়ে স্যাটায়ার করা হলো। বাংলাদেশের রাজনীতির পংকিল আর্বজনায় তাকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা আর কি। বট বাহিনী নেমে পড়লো সোশাল মিডিয়ায়। তাকে নিয়ে এআই ব্যবহার করে শতশত ফটো কার্ড তৈরি হচ্ছে।  রাজনীতিতে শিশুর মতো এখনও পবিত্র একটি মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন অপপ্রচার চলছে। অথচ গত ৪টি মাস তার কার্যক্রম ফলো করলে কোন নেতিবাচক কর্মকান্ড ধরা পড়েনি। বরং অতি সাধারন চালচলন ও কথাবার্তায় মানুষের মন জয় করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিবার থেকে এ ব্যাপারে এখনও কিছু বলা হয়নি।
ইউরোপে বেড়ে ওঠা একজন তরুণ-তরুণীর কাছে খেলাধুলা বা এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। জাইমা রহমানও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। পড়াশোনাতে মনোযোগ কিংবা পরিবারের ইচ্ছায় সেই সুযোগটি হাতছাড়া করতে হয়েছে তাকে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, তার সেই ব্যক্তিগত অতীত এবং জীবনের স্বাভাবিক কিছু সিদ্ধান্তকে আজ অনেকেই 'ন্যাশনাল ইস্যু' বানিয়ে ফেলেছে। মেয়েটি বিদেশের মাটিতে সম্ভাবনাময় জীবন ফেলে এসেছে। তাকে কেন বারবার এখানে অপ্রয়োজনীয় সামাজিক কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে?

মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ বা অতীত নিয়ে এই অহেতুক কৌতূহল এবং সমালোচনা কেবল অনুচিতই নয়, বরং চরম অসম্মানজনক। অন্যের জীবন নিয়ে কাঁটাছেঁড়া বন্ধ করে আমাদের বরং মানুষের ব্যক্তিগত স্পেস এবং সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে শেখা উচিত।

ব্যক্তিগত অতীত নিয়ে বারবার পাবলিক স্ক্রুটিনি বা ট্রায়াল এক ধরনের হেনস্থা! প্রশ্ন হচ্ছে, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে কেন আগ বাড়িয়ে এসব বলতে হলো। নাকি খুশি করার রাজনীতিতে পা রাখলেন। যা রাজনীতিতে তেলের ডিব্বা নামে পরিচিত। অতীতেও শেখ হাসিনাকে তোষামোদী করতে মন্ত্রী ও সাংবাদিকরা প্রতিযোগিতায় নামতেন। তারেক রহমানকে নিয়েও এ ধরনের প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। জয়নাল আবেদীন ফারুকতো ২০৪২ সাল পর্যন্ত বিএনপিকে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন । আমিনুলরা প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের প্রশংসা নিয়ে দৌড়াচ্ছেন।  
আর এ সব বির্তকের সূত্রপাত হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর একটি টিভি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে।  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ইংলিশ ক্লাব চেলসির নারী দলে গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান তিনি।

আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডাক্তার জুবাইদা রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা জাইমা রহমান তারা কিন্তু অসম্ভব খেলাধুলাকে পছন্দ করেন। আমি যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লন্ডন গিয়েছিলাম তখন সামনাসামনি ডাক্তার জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও তার স্ত্রী-কন্যা খেলাধুলা বেশি পছন্দ করেন উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনিও আমাকে বারবার বলেছেন, ‘আমিনুল আমি যতটুকু না স্পোর্টস পছন্দ করি তার চেয়ে থাউজেন্ড টাইম বেশি পছন্দ করে তোমাদের ভাবি এবং আমার মেয়ে জাইমা রহমান।’

আমিনুল হক বলেন, ‘সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যে আমাদের জাইমা রহমান তিনি কিন্তু চেলসির মেয়েদের ফুটবল টিমেও সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি একজন গোলকিপার হিসেবে ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লম্বা এবং সেই সুযোগটা পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আসলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বা তাকে খেলার সেই সুযোগটি তৈরি করে দেননি। বেসিক্যালি আমি যতটুকু জানি যে তিনি আমার মত একজন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্ত।’ 
আমিনুলের এই বক্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। জন্ম নেয় বির্তকের। সমালোচনা মুখে পড়েন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল পরে এক ব্যাখ্যায় বলেছেন, গণমাধ্যমে আমার বক্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি দাবি করে বলেন, জাইমা রহমান লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে ফুটবল খেলতেন। তখন চেলসির বয়সভিত্কি খেলার সুযোগ তার আসে। কিন্তু নানা পরিস্থিতির কারনে আর খেলা হয়নি।  
অবশেষে জাইমা ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করলেন আমিনুল 
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাইমা রহমানের ফুটবল অনুরাগ এবং চেলসির বয়স-ভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়া সংক্রান্ত আমার একটি আলোচনাকে কেন্দ্র করে যে ধরনের বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক জাতীয় গোলরক্ষক আমিনুল হক।

সোমবার ২৩ মার্চ রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পূর্বের বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি ।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে স্পষ্ট করতে চাই যে, আমার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি তার ক্রীড়া প্রতিভার বিষয়টি তুলে ধরা। এটি একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা ছিল, যাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কোনো অবকাশ নেই।’

পোস্টে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘একটি ব্যক্তিগত বক্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন বা অপব্যাখ্যা না করার জন্য। তথ্যগত বিভ্রান্তি বা আমার বক্তব্যে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’