শনিবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১৫ ১৪৩২   ১১ রমজান ১৪৪৭

‘কবি মোহন রায়হানকে অপমান কোন যুক্তিতে’

আহমেদ জহুর

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:০৮ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার


 

বাাংলা একাডেমি ঘোষণা করেও কেন কবি মোহন রায়হানকে পদক দিলো না? আগের দিন স্টেজ রিয়ারসেলও হলো। কে কিভাাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বাংলা একাডেমি পুরষ্কার গ্রহন করবেন তার মহড়ায় মোহন অংশও নিলেন। অথচ অনুষ্ঠানের শুরুতে তার নামও ঘোষণা করা হলো। শেষ মুহুর্তে তাকে বাদ দেয়া হলো। সবাইকে পুরষ্কার নেবার জন্য এক এক করে ডাকা হলো মঞ্চে। ডাকা হলো না মোহন রায়হানকে। অনুষ্ঠানেই তা নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়। সমালোচনার ঝর উঠলো। 
এমন ঘটনা নিয়ে মোহন রায়হান একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "প্রিয় দেশবাসী 
সালাম জানবেন। 
আপনারা অবগত আছেন, এবার ২০২৫ বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার (কবিতায়), আমাকে প্রদান  করা হয়েছিল।
এই পুরস্কার আমার একদমই প্রত্যাশা ছিল না। আমি একজনের কাছেও পুরস্কারের জন্য তদবির করিনি। পুরস্কার কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে নির্বাচিত করে।
২৪ ফেব্রুয়ারি পুরস্কারপ্রাপ্তদের ডেকে এসএসএফ পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সেল প্রদান করে। ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের সূচনায়ও আমার নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পুরস্কার প্রদানের সময় আমাকে আর ডাকা হয়নি। জানতে পারলাম, ৪১ বছর আগে কর্ণেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার ''তাহেরের স্বপ্ন'' কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে।"

লেখক আহমেদ জহুর এই ঘোটনা নিয়ে একটি স্ট্যটাস দিয়েছেন। তিনি তারেক রহমানের সাথে মোহন রায়হানের একটি ছবি পোষ্ট করে লিখেছেন, এই ছবিটিই মোহন রায়হানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। তারেক রহমানের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে। এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষিত হলে তিনি কবিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু আজ তাকে পুরস্কার গ্রহণের জন্য আহবান করা হয়নি। যদি কর্নেল তাহেরকে নিয়ে কবিতা লেখার কারণে এমনটি হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্ন ওঠে, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে মোহন রায়হানের অবদান কি কম ছিল? আমি বুঝিনা, একজন প্রতিবাদী কবিকে এভাবে অপমানিত করা হল কোন যুক্তিতে। প্রিয় বন্ধু মোহন রায়হান একটি পোস্টে তার মনোকষ্ট তুলে ধরেছেন।