১২০ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার-মেডিকেইড জালিয়াতি
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৩:০২ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
নিউইয়র্কের কুইন্সের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করে। অভিযুক্তরা বয়স্কদের ডে কেয়ার ও ফার্মেসি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন ইনউ কিম (৪২) এবং ড্যানিয়েল লি (৫৬)। উভয়েই কুইন্সের ফ্লাশিংয়ের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে তারা জি এন্ড ডাব্লিউ এম্পায়ার এন্টারপ্রাইজ ইনকের অধীনে পরিচালিত অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ও হ্যাপি লাইফ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমন সব সেবার বিল জমা দেন, যার সত্যতা নেই।
গেল শুক্রবার ব্রুকলিনে অভিযোগপত্রটি উন্মুক্ত করা হয়। ডিওজি জানায়, অভিযুক্তরা মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডে ভুয়া দাবি দাখিল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন।
বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন,“অভিযুক্তরা প্রবীণদের সহায়তার জন্য গড়ে তোলা ফার্মেসি ও সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারকে ১২০ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি স্কিমে পরিণত করেছে। যারা দুর্বলদের শোষণ করে করদাতাদের অর্থ লুটে নেয়, আজকের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেই।”
ডিওজি -এর ভাষ্য অনুযায়ী, ডে কেয়ার সেন্টারের আড়ালে কিম ও লি প্রবীণদের নগদ অর্থ ও সুপারমার্কেট গিফট কার্ড দিয়ে প্রলুব্ধ করতেন। উদ্দেশ্য ছিল-মেডিকেইড ও মেডিকেয়ারভুক্ত রোগীদের কিমের ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশন পূরণে বাধ্য করা। পাশাপাশি, মেডিকেইড গ্রাহকদের তাদের সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারে তালিকাভুক্ত করতে অবৈধ নগদ কিকব্যাক দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগপত্রে সংযুক্ত টেক্সট মেসেজে কথিত অপরাধের সমন্বয়ের প্রমাণ দেখানো হয়েছে। এক বার্তায় কিম লিখেছেন বলে দাবি, “কোরিয়ান সদস্যদের আগে ১০ হাজার ডলার দিন।” আর ইয়াং লিখেছেন, “আমি পেমেন্ট দিয়েছি,” এবং “টনি (কিম)-এর কাছে খামটি রেখে গেছি।”
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা ডে কেয়ার সেন্টারের অনুমোদিত ছাড়া এর চেয়েও বেশি বিল জমা দেন বলে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে-কিছু ক্ষেত্রে যেসব দিনে সেবার বিল করা হয়েছে, সেই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিকব্যাক ও ঘুষের অর্থ জোগাড় করতে অভিযুক্তরা তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে “উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ” উত্তোলন করতেন।
প্রসিকিউটরদের মতে, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড মিলিয়ে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার এমন প্রেসক্রিপশন ও ডে কেয়ার সেবার জন্য পরিশোধ করা হয়েছে, যা চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল না, আদৌ দেওয়া হয়নি, অথবা ঘুষ-কিকব্যাকের মাধ্যমে প্ররোচিত ছিল।
অভ্যন্তরীণ এই দুর্নীতি ফাঁসকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষপ্রাপ্ত কিছু নিউইয়র্কারের দেওয়া তথ্য তদন্ত শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফ্লাশিংয়ের ডে কেয়ার সেন্টারগুলোতে “সম্ভাব্য জালিয়াতিমূলক কার্যক্রম” নিয়ে ইমেইলও পাওয়া যায়।
এদিকে, ইনউ কিম ও ড্যানিয়েল লির বিরুদ্ধে হেলথকেয়ার জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
