খবর পেতে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে ঝুঁকছে, জরিপে উদ্বেগ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:৩২ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক এলাকায় স্থানীয় সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষ খবর পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইনফ্লুয়েন্সার ও পরিচিতদের ওপর বেশি নির্ভর করছে— নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মেডিল লোকাল নিউজ ইনিশিয়েটিভের এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ বলছে, যেসব এলাকায় কোনো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নেই, সেসব জায়গার ৫১ শতাংশ মানুষ স্থানীয় খবর পায় অ-পেশাদার উৎস থেকে। অর্থাৎ ফেসবুক গ্রুপ, বন্ধু-পরিবার, ইনফ্লুয়েন্সার বা সার্চ ইঞ্জিনই এখন অনেকের প্রধান তথ্যের উৎস হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ থেকে স্থানীয় খবর দেখে এবং ৪১ শতাংশ মানুষ স্থানীয় টিভি সংবাদ দেখে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এলাকাগুলোর মানুষ মনে করে তারা খবরের অভাবে ভুগছে না। নিউজ ডেজার্ট অর্থাৎ যে এলাকায় সংবাদমাধ্যম কম, সেসব এলাকায় ৪৯ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন স্থানীয় খবর দেখে, আর যেখানে সংবাদমাধ্যম আছে সেখানে এই হার ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষ খবর দেখছে ঠিকই, কিন্তু তা সব সময় যাচাই করা সাংবাদিকতার মাধ্যমে নয়।
গবেষকরা বলছেন, এখানেই বড় ঝুঁকি। মানুষ বুঝতে পারছে না যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবর তারা পাচ্ছে না। আর যাচাই করা সাংবাদিকতা না থাকলে স্থানীয় সরকার বা ক্ষমতাবানদের ওপর নজরদারি কমে যেতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের ছড়াছড়ি, সংকটে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা
জরিপে আরও দেখা গেছে, যেসব এলাকায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নেই সেখানে মানুষের সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থা কম। সংবাদসমৃদ্ধ এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ স্থানীয় সংবাদে আস্থা রাখে, কিন্তু নিউজ ডেজার্ট এলাকায় এই হার মাত্র ৪৬ শতাংশ। সাংবাদিকদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগও কমে গেছে।
গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ শতাংশ সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এখন স্থানীয় সংবাদে সীমিত সুযোগ নিয়ে বসবাস করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় সাংবাদিক না থাকলে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়াতে পারে এবং নাগরিক অংশগ্রহণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মানুষ খবর পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যাচাই করা সাংবাদিকতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তথ্যসূত্র : পয়েন্টার
