বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৯ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভূপাতিত বিমানের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১১:১৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছর মে মাসে হওয়া চারদিনের সংঘর্ষে ‍ভূপাতিত বিমানের সংখ্যা নিয়ে আবারও নতুন তথ্য দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে তিনিই ওই যুদ্ধে ৫টি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন। এরপর কয়েক মাস পর সেটি বেড়ে হয় সাতটি। পরে তিনি বলেন ৮টি, এবার সেটি দুই অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করল।

পাকিস্তানের সংবামাধ্যম ডন জানায়, ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০টি বিমান ভূপাতিত হওয়ার এ নতুন দাবি পেশ করেছেন।

বুধবার সম্প্রচারিত হওয়া এ সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক ট্রাম্পের ‘সম্পূরক শুল্ক বসানোর নীতির’ ব্যাপক প্রশংসা করেন।

এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, “এটা খুবই ভদ্র ও সুন্দর উপায়। দেখুন, আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি। এই আটটির মধ্যে অন্তত ছয়টি থেমেছে শুল্কের কারণে।

“অন্যভাবে যদি বলি, আমি তাদেরকে বলেছি, ‘তোমরা যদি না থামো, তাহলে আমি তোমাদের ওপর শুল্ক বসাবো, কারণ আমি লোকজন মারা পড়ছে এমনটা দেখতে চাই না’। তখন তারা বলে, ‘না, এর সঙ্গে শুল্কের সম্পর্ক কী?’ আমি বলেছি, ‘তোমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে’।

“যেমন ভারত ও পাকিস্তান আমার মনে হয় পারমাণবিক যুদ্ধতে চলে যেত। সত্যি সত্যিই সেদিকে এগুচ্ছিল। ১০টি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। ওইদিকেই যাচ্ছিল,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত ১০ মাসে ট্রাম্প মে-র ওই যুদ্ধে ভূপাতিত হওয়া বিমানের সংখ্যা একেকবার একেকটা বলেছেন, তবে কার হাতে কতগুলো ভূপাতিত হয়েছে তা কখনো স্পষ্ট করেননি।

প্রথমদিকে তিনি বলেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ৫টি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। এরপর অক্টোবরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে বলেছিলেন সাতটি বিমান। নভেম্বরে সেটি আরও বেড়ে ৮-এ পৌঁছেছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের প্রশংসাও করেন।

“তিনি যুদ্ধ থামাতে আমাদের কাছে এসে অন্তত এক কোটি লোকের জীবন বাঁচিয়েছেন।

“কারণ, দেখুন তারা পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে যাচ্ছিল বলেই আমার অভিমত। শুল্ক ছাড়া ওই যুদ্ধবিরতি হতোই না,” জোরের সঙ্গে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি আর্মেনিয়া-আজারবাইজান কয়েক দশকের সংঘাতের কথাও স্মরণ করেন, গত বছরের অগাস্টে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির পর থেকে যা অনেকটাই কমে এসেছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, গত ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্র যত প্রেসিডেন্ট পেয়েছে সবাই ‘ব্যবসায় কাঁচা’। কিন্তু আমি তেমন নই। আমি ব্যবসায় সত্যিই ভালো।” 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় শেহবাজ শরীফ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

ওই বছরের এপ্রিলে কাশ্মিরে পর্যটকদের ওপর এক ভয়াবহ হামলার পর নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায়; শেষ পর্যন্ত তা পাল্টাপাল্টি বিমান ও সীমান্তে গোলাগুলিতে গড়ায়।

কাশ্মীরে ওই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে এলেও ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ট্রাম্প বরাবরই ওই যুদ্ধ থামানোর জন্য কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন। তবে ভারত এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছে, পাকিস্তানের প্রস্তাবের পরই দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হয়েছে। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ বা বাণিজ্য আলোচনা বন্ধের হুমকি তাতে কোনো ভূমিকা রাখেনি।

নয়া দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনাও অনেক মাস থমকে ছিল, যার দরুন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেছিলেন। তবে চলতি মাসেই ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে নতুন ‘বাণিজ্য চুক্তির’ ঘোষণা দিয়েছেন।

তার দিনকয়েক পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্র সফরেও যান এবং সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন।