বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

ওয়েবসাইট থেকে হাজারো এপস্টেইন নথি সরাল মার্কিন বিচার বিভাগ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৮:০৮ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত হাজার হাজার নথি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এসব নথি প্রকাশের কারণে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।

ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিগুলোতে তথ্য গোপন করার ক্ষেত্রে বা ‘রিডাকশন’-এ মারাত্মক ত্রুটি ছিল। এর ফলে প্রায় ১০০ জন ভুক্তভোগীর জীবন ‘উলটপালট’ হয়ে গেছে বলে দাবি তাদের। নথিতে ই–মেইল ঠিকানা ও নগ্ন ছবি থাকায় সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নাম ও চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল।

এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের নাম প্রকাশ, যাচাই-বাছাই বা নতুন করে ট্রমার শিকার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডিওজে জানিয়েছে, যেসব নথির বিষয়ে অভিযোগ এসেছে, সেগুলো সব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার এক ফেডারেল বিচারকের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে ডিওজে জানায়, রোববার সন্ধ্যার মধ্যে ভুক্তভোগী বা তাদের আইনজীবীদের অনুরোধে সংশ্লিষ্ট সব নথি আরও ভালোভাবে রিড্যাকশনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। নতুন অনুরোধগুলো পর্যালোচনায় রয়েছে।

এর আগে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ একটি প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে ডিওজেকে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশে বাধ্য করে। তবে নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা ছিল—ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা যায়, এমন সব তথ্য গোপন রাখতে হবে।

মঙ্গলবার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টেইনের ভুক্তভোগী অ্যানি ফার্মার বলেন, নতুন তথ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিওজে যেভাবে ভুক্তভোগীদের প্রকাশ করেছে, তাতে যে ক্ষতি হয়েছে তা ভয়াবহ।

আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস অভিযোগ করেন, ডিওজে তিনটি শর্তই লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, ‘অনেক নথি এখনো প্রকাশ হয়নি, নির্ধারিত সময়সীমা বহু আগেই পেরিয়ে গেছে এবং বহু ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের সঙ্গে এক ধরনের খেলা চলছে।’

নারী অধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড বলেন, কিছু নথিতে নামের ওপর দাগ টানা থাকলেও তা স্পষ্টভাবে পড়া যাচ্ছে। কোথাও আবার ভুক্তভোগীদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে—যারা কখনো প্রকাশ্যে আসেননি, নিজের নামও জানাননি।

ডিওজের এক মুখপাত্র মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে জানান, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিরপরাধদের রক্ষায় প্রকাশিত লক্ষ লক্ষ পাতার মধ্যে হাজার হাজার ভুক্তভোগীর নাম গোপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছর একটি আইনের মাধ্যমে এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে ডিওজে লক্ষ লক্ষ ফাইল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও। শুধু গত শুক্রবারই এই বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করা হয়।