শনিবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৭ ১৪৩২   ১২ শা'বান ১৪৪৭

আইস নিষিদ্ধের দাবিতে ড্রামের বিশাল মিছিল

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:২৬ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

 

 
 
কোনো ধরনের অপরাধে লিপ্ত না থাকা অভিবাসীসহ সিটিজেনরাও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দয় আচরণের ভিকটিম হচ্ছেন। এমনকি জানুয়ারিতে আইসের গুলিতে মিনিয়াপলিসে দুই সিটিজেনের নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় অভিবাসী সমাজে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে। নিউইয়র্কসহ ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভেনিয়া, বস্টন, লসএঞ্জেলেসে গত কয়েকদিন ধরেই মিনিয়াপলিসে আইসের আচরণের নিন্দা-প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে আইস বিলুপ্তির স্লোগান উঠেছে।

দেশ থেকে আইস বিলুপ্ত করার জাতীয় আহবানে সাড়া দিয়ে নিউইয়র্ক সিটির ইউনিয়ন স্কোয়ারেও ২৩ জানুয়ারি হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন। এতে ছিলেন অভিবাসী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত ‘দেশিজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিংয়ের (ড্রাম) শতাধিক সদস্য। আন্দোলনকর্মী এবং মিনিয়াপলিসের যে সব সংগঠক ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সহিংসতা সত্ত্বেও টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ও তাদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন সবাই। সারা দেশে আইসের সহিংসতা, আগ্রাসন এবং মিনিয়াপলিসে ৩৭ বছর বয়স্ক রেনী নিকোল গুডকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন, ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এম এন, শ্রমিক ইউনিয়ন, ছাত্র, অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠী, ধর্মীয় বিশ্বাসী নেতা এবং কমিউনিটি সংগঠন যোগ দেয়।

আইস যে মানুষগুলোর জীবন ধ্বংস করেছে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য সারা দেশে জনগণ সমবেত হচ্ছে। সেইসঙ্গে তারা আইসের ক্রমাগত সহিংসতার জবাবদিহি দাবি করছে। আইস এজেন্টরা নিকোল গুডকে হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই আলেক্স প্যাঁটি নামে ৩৭ বছর বয়সী আরেকজনকে খুন করলো, এসব কিছুর হিসাব চাইতেই জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি আইসের সমালোচনায় বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি সরকারের একটা এজেন্সি অভিবাসন আইনের সদ্ব্যবহার করার বদলে সাধারণ জনগণকে তাদের অবস্থান, আইনের সঠিক ব্যাখ্যা, কেসের বাস্তবতা এসব কোনো কিছুই বিবেচনা না করে সকলকে হয়রানি এবং আতঙ্কিত করছে। মামদানি ওই এজেন্সি বিলুপ্তির পক্ষে জোর দাবি তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইসের বিলুপ্তির সমর্থন করি কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে উদ্দেশ্যে আইস গঠিত হয়েছিল সেটার আর কোনো প্রয়োজন নেই।’

গত শুক্রবার মিনেসোটায় উদারবাদি ধর্মীয় নেতারা, ডেমোক্রেটিক আইন প্রণেতা এবং কমিউনিটি আন্দোলনকারীরা একটা সাধারণ ধর্মঘট করেছিল, জনগণ বাসায় বসে থেকেছে, তারা কাজে যায়নি, স্কুলে যায়নি, এমনকি কোনো কিছু কিনেনি। নিউইয়র্ক সিটিতে সংগঠকরা সিটি থেকে স্থায়ীভাবে আইসকে চলে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং হোম ডিপো, পালানটি ও আমাজনের মতো লোভী মুনাফাখোরদেরকে প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছে যারা আইসকে সহযোগিতা করে আমাদের কমিউনিটিকে বিভাজন করছে ও ক্ষত-বিক্ষত করছে। নিউইয়র্কবাসী তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং কংগ্রেস সদস্যদের আহবান জানিয়েছে তারা যেন আইসের সহিংসতা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতায় আনার জন্য তাদের বাজেট বন্ধ করে দেয়।

ড্রামের কমিউনিটি অ্যান্ড হাউজিং অর্গানাইজার রওশন আরা নীপা বলেন, ‘কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এটা একটি কঠিন সময়। সারা দেশে এবং নিউইয়র্ক সিটিতে যা কিছু ঘটছে তা দেখে আমরা অনেক ভীত শঙ্কিত। লোকজন কাজে যাচ্ছে না, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছে না এবং এমনকি গ্রোসারিতে বাজার করতেও ভয় পাচ্ছে। এত কিছু সত্ত্বেও আমাদের শ্রমজীবী অভিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ওদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে আমরা সবাই মিলে কমিউনিটি রক্ষার জন্য প্রস্তুত।’