শুক্রবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১০ ১৪৩২   ০৪ শা'বান ১৪৪৭

আরও ৩৬ বাংলাদেশি ডিপোর্ট

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৫:৪২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার


 
 
বৈধ কর্মী হিসেবে ব্রাজিলে গিয়ে সেখান থেকে অবৈধ পথে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলামের খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা। মার্কিন সরকারের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জাহিদুলসহ ৩৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে এক নারীসহ ওই ৩৬ জন অভিবাসীকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামিয়ে দেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাদের পরিবহনসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “প্রবাসে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশে পরিবার-পরিজনের জমি, গয়না বিক্রি করে কিংবা ঋণ নিয়ে জনপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা কেউ কেউ ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে তারা যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন ভেঙে ফিরে এলেন শূন্য হাতে।”
মঙ্গলবার এক বার্তায় ব্র্যাক জানিয়েছে, ফেরত আসা এই ৩৬ জনের মধ্যে নোয়াখালীরর ২১ জন, লক্ষ¥ীপুরের ২ জন এবং মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নেত্রকোণা জেলার একজন করে রয়েছেন।
২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৯৩ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র।
ফেরত আসা কর্মীদের বরাত দিয়ে ব্র্যাক জানিয়েছে, এই ৩৬ জনের অধিকাংশই প্রথমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।
ফেরত আসা নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ আমেরিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আশায় তিনি দালালদের হাতে তুলে দেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
আর গাজীপুরের সুলতানা আক্তার বলছেন, ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পার হতে দালালদের তিনি দেন ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু সব বৃথা গেল।
এভাবে নোয়াখালীর মীর হাসান ৫৫ লাখ, রিয়াদুল ইসলাম ৫০ লাখ এবং রাকিব ৬০ লাখ টাকা খরচ করে স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে তাদের দেশে ফিরতে হল।
ব্র্যাকের শরিফুল হাসান বলছেন, “গত কয়েক দফায় যারা ফেরত এসেছেন, তাদের অনেকেই প্রথমে ব্রাজিল গিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র যান। প্রশ্ন হল, সরকার যখন ব্রাজিলে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেয়, তখন তারা সত্যিই ব্রাজিলে কাজ করতে যাচ্ছেন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত।
“এই যে একেকজন ৪০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা খরচ করে শূন্য হাতে ফিরে আসছেন, এই দায় কার? যেসব এজেন্সি এই কর্মীদের পাঠিয়েছে এবং যারা এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।”
তিনি তথ্য দেন, ২০২৫ সালে জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে মোট ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, তাদের মধ্যে নোয়াখালী জেলারই ৯৫১ জন।
“ধারণা করা যায়, তাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের সরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা বন্ধ রেখেছে দেশটি।
কড়াকড়ির অংশ হিসেবে গত বছর থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠাতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনাও হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পাঠানোর কাজটি দ্রুত সারতে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে। এই ফ্লাইটগুলো আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে তারপর ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
একই ফ্লাইটে বিভিন্ন শহর থেকে বিভিন্ন দেশগামী অভিবাসীদের তুলে দেওয়া হয়। ফলে এই ফ্লাইটগুলোতে সময় লাগে নিয়মিত ফ্লাইটের কয়েক গুণ বেশি।
এই পুরোটা সময় অভিবাসীদের হাতকড়া ও শেকল পরিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। (সূত্র-আওয়াজ)