বৃহস্পতিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৯ ১৪৩২   ০৩ শা'বান ১৪৪৭

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৮:২৫ এএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। গত মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হাজারো শ্রমিক ও শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে মিছিল-সমাবেশ করেন। বড় শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তিতে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুরু করা কঠোর অভিযানকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের (আইস) অভিযানে এক কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়াও নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলের মতো ছোট শহরগুলোতে শত শত মানুষ সমবেত হন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিচ্ছেন।

ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ‘ঘৃণা নয়, ভয় নয়– অভিবাসীদের স্বাগত’ স্লোগান দেন। একই সময়ে নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে শহরে স্কুল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে স্টেট হাউসের সামনে সমাবেশ করে। বামপন্থি সংগঠন ইন্ডিভিজিবল ও ৫০৫০১-এর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠন এই কর্মসূচির ডাক দেয়। বিশেষ করে টেক্সাসের এল পাসোর মতো অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোর বিরোধিতা করছেন বিক্ষোভকারীরা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রে গত ছয় সপ্তাহে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ইউরোপে ন্যাটোর কমান্ড সেন্টারে লোকবল কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই ইউরোপে ন্যাটোর একাধিক কমান্ড সেন্টার থেকে প্রায় ২০০ মার্কিন কর্মী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্রাসেলস ও পর্তুগালে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে এই কাটছাঁট করা হবে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি জনবল পুনর্বিন্যাসের অংশ মাত্র এবং এর ফলে ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সামগ্রিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না। সূত্র: এনবিসি, রয়টার্স ও আলজাজিরা।