শনিবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩ ১৪৩২   ২৮ রজব ১৪৪৭

অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের দুঃসময়

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:২৮ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

  
 
স্বপ্নের আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য লাখো বিদেশী এসাইলাম আবেদন করেছেন। তাদের আবেদন ইউএসসিআইএস কিংবা ইেিগ্রশন কোর্টে পেন্ডিং আছে। আইসের হাতে গ্রেফতারের ভয়ে কোর্টে হেয়ারিং এর তারিখ পড়লেও অনেকে যাচ্ছেন না। তাদের বাসায় বাসায় হানা দিচ্ছে পুলিশ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এসাইলাম আবেদগুলোতে চিরুণী বাছাই করছে। সন্দেহ হলেই তদন্ত কিংবা আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ফাইল তুলে দিচ্ছে। আর এসাইলাম আবেদনের আশায় যারা অপেক্ষা করছেন তারা আর আবেদনের ধারে কাছেও যাচ্ছেন না। অনেকেই স্বপ্নভঙ্গ দিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে জটিল ও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশাল আবেদন ব্যাকলগ, ঘনঘন নীতিমালার পরিবর্তন, আবেদন বাতিলের হার বৃদ্ধি এবং ওয়ার্ক পারমিট পেতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আবেদনকারীরা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। 
এদিকে, আবেদন গৃহীত হওয়ার পর যারা গ্রিনকার্ড পেয়েছেন তারাও নানান ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা গ্রিনকার্ড পেয়ে নিজ দেশে সফর করেছেন তাদের জন্য এক ধরনের ‘বিপদ’ তৈরি হয়েছে। নিজ দেশ থেকে ফেরার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। 
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং সীমান্তে ‘কঠোর স্ক্রিনিং’ নীতি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে অনেক আবেদনকারী প্রাথমিক যাচাই পর্যায়েই বাদ পড়ছেন। আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণে ‘বিশ্বাসযোগ্য ভয়’, সাক্ষাৎকারে মানদণ্ড আরও কঠোর হওয়ায় অনুমোদনের হার কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও বেড়েছে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশী। ইমিগ্রেশন কোর্টে শুনানির তারিখ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, প্রমাণপত্রের বাড়তি শর্ত এবং আইনগত সহায়তা না পেলে আবেদনকারীদের পক্ষে মামলা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই আবেদনকারীরা কাজের অনুমতি পেতে বিলম্বের মুখে পড়ছেন।
অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার সময়সীমা আগে যেখানে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ছিল, সেখানে তা কমিয়ে দেড় বছর করা হয়েছে। এতে আবেদনকারীদের জীবিকা নির্বাহ ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাসাইলাম সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বহু আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার ও শুনানির তারিখ বাতিল বা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে।