শনিবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩ ১৪৩২   ২৮ রজব ১৪৪৭

বাংলাদেশিদের প্রবেশে ৯ বিমানবন্দর

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:০৮ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

 

#    প্রতিবছর ৪ হাজার বাংলাদেশি ফেরত যান না

 
.বাংলাদেশিরা ৯টি বিমান বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ডধারীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রবেশ বন্দরের তালিকা তিনটি বিমানবন্দর থেকে বাড়িয়ে নয়টি প্রধান আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে উন্নীত করেছে। বর্ধিত এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা ধারীদের শুধুমাত্র নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবশ ও প্রস্থান করতে হবে।
এই পরিবর্তনটি পররাষ্ট্র দপ্তরের চলমান ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামের একটি অংশ। যা এমন দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে যেখানে ভিজিটর ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার হার বেশি। কর্মকর্তারা বলছেন, এই সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য হলো বন্ডের শর্তাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি আগমন ও প্রস্থানের উপর নজরদারি উন্নত করা।
এর আগে, ভিসা বন্ডধারীদের শুধুমাত্র বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করার অনুমতি ছিল। হালনাগাদ নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই তালিকায় আরও ছয়টি প্রধান বিমানবন্দর যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট বিমানবন্দরের সংখ্যা নয়টিতে দাঁড়িয়েছে।
নতুন নির্ধারিত প্রবেশ বন্দরগুলো হলো নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মন্ট্রিয়ল-পিয়ের এলিয়ট ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে আরও বন্দর যুক্ত করা হতে পারে।
প্রবেশ বিমানবন্দর সম্প্রসারণের এই নিয়মটি সেইসব ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য, যাদের বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ৫,০০০, ১০,০০০ বা ১৫,০০০ ডলারের ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ড জমা দিতে হয়। বন্ডের পরিমাণ ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে ৩৮টি দেশের নাগরিকরা এই বন্ডের শর্তের অধীন। এই তালিকাটি আগস্ট ২০১৫ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রসাারিত হয়েছে এবং এখন এতে নেপাল, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ভেনিজুয়েলা, সেনেগাল এবং উগান্ডাসহ আরও অনেক দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের ২১শে জানুয়ারি থেকে নেপাল এবং আরও ২৪টি দেশকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার কথা রয়েছে।
যেসব আবেদনকারী বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাদের অবশ্যই ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-র ফর্ম আই-৩৫২ পূরণ করতে হবে এবং একজন মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার পরেই বন্ড জমা দিতে হবে। অর্থপ্রদান অবশ্যই শুধুমাত্র মার্কিন ট্রেজারির অফিসিয়াল পেমেন্ট সিস্টেম, পে.গভ-এর মাধ্যমে করতে হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট আবেদনকারীদের তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে অনুমোদিত চ্যানেলের বাইরে জমা দেওয়া তহবিলের জন্য মার্কিন সরকার দায়ী থাকবে না।
কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে বন্ড জমা দেওয়া ভিসার নিশ্চয়তা দেয় না এবং একজন কনস্যুলার কর্মকর্তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া করা কোনো অর্থপ্রদান ফেরত দেওয়া হবে না।
বন্ডের একটি শর্ত হিসেবে, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত নির্ধারিত বন্দর সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অনুমোদিত বিমানবন্দরগুলোর যেকোনো একটি দিয়ে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে ব্যর্থ হলে প্রবেশে বাধা বা বিলম্ব হতে পারে, অথবা প্রস্থান সঠিকভাবে রেকর্ড নাও হতে পারে-যা ভবিষ্যতে ভিসার যোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের সন্দেহজনক ঘটনাগুলো আরও পর্যালোচনার জন্য ইউ.এস. সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস-এর কাছে পাঠায়। লঙ্ঘনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করা, সময়মতো দেশত্যাগ করতে ব্যর্থ হওয়া, অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন অভিবাসন অবস্থার পরিবর্তন বা সমন্বয় করার চেষ্টা করা, যার মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাও অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবছর গড়ে ৪ হাজার ২শত বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত যান না। যাকে ওভারস্টে বলা হয়। এদের সকলেই ভ্রমন,স্টুডেন্ট কিংবা বিজনেস ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। হোমল্যান্ড সিকিউনিটির প্রকাশিত ডাটায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভ্রমন কিংবা বিজনেস ভিসায় প্রবেশ করেছেন ৩৮ হাজার ৫৯০ জন। এরমধ্যে ২ হাজার ২১৩ জন ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেনি। যার হার শতকরা ৫.৭৩। এই অভারস্টে করা নন-ইমিগ্রন্টদেও অধিকাংশই এসাইলাম প্রার্থনা করেছেন। স্টুডেন্ট ভিসায় এসে ওভারস্টে করার সংখ্যা ব্যাপক বলে উল্লেখ করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। তার সংখ্যাও ২০২৪ সালে (স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ এক্সপায়ার্ড) ২ হাজার। 
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এন্ট্রি/এক্সিট ওভারস্টে রিপোর্ট অনুসারে সারা বিশ্ব থেকে আসা ৫ লাখ ভিজিটর ও ব্যবসায়ী আর ফেরত যায় নি। তবে তা ভিসা নিয়ে প্রবেশ করা মোট বিদেশির মাত্র শতকরা ১.১৫ ভাগ। শতকরা ৯৮.৮৫ ভাগ ভিজিটর/ব্যবসায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের শর্ত মেনে চলেছেন।