এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন ৩ ফেব্রুয়ারি
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩৩ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশি প্রতিনিধি সময়ের দাবি:মেরি
আমিই পার্টির মনোনয়ন পেয়েছি: ডিয়ানা
নিউইয়র্ক এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় এ আসনটি শূন্য হয়েছে। এস্টোরিয়া ও লং আ্ইল্যান্ড সিটির বড় একটি অংশ নিয়ে এ নির্বাচনী এলাকা। এ শুন্য আসনে নির্বাচন করছেন ৪ জন প্রার্থী। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি মনোনয়ন দিয়েছে ইকুয়েডেরিয়ান আমেরিকান ডিয়ানা মরনোকে। অন্য ২ জন প্রার্থী ডেমোক্র্যাট হলেও দলীয় মনোনয়ন পান নি। তারা লড়ছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। তারা হলেন বাংলাদেশি বংশোদভূত ও কমিউনিটি একটিভিস্ট মেরি জোবায়দা, লোকাল মুসলিম কমিউনিটি সংগঠক রানা আব্দেলহামিদ ও শিভানী ধীর । জনমত জরিপে মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন ডিয়ানা, বাংলাদেশি বংশোদভূত আমেরিকান মেরি জোবায়দা ও রানা। মেরি ও রানা ২ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ের। মেরি লড়ছেন‘পিপল ফার্স্ট’ পার্টি লাইনে। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে এ ৪ জন প্রার্থীই জোরান মামদানিকে সর্মথন করেছিলেন। তার জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু মেয়র নির্বাচনের পর মামদানি তারই ছেড়ে দেয়া এসেমব্লি আসনের নির্বাচনে সর্মথন দিয়েছেন ডিয়ানা মরনোকে। এতে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনে ২০২০ সালে মামদানি ৮,৪১০ হাজার ভোট পেয়ে প্রথমবার এসেমব্লিম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি আরাভেলা সিমোটাস পেয়েছিলেন ৭,৯৮৬ ভোট। ২০২৪ সালে মামদানি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ধারণা করা হচ্ছে, এবার ৪ প্রার্থীর মধ্যে যিনিই ৬ হাজারের কাছাকাছি ভোট পাবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। সাপ্তাহিক আজকাল ডিয়ানা ও মেরির সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছে। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

মেরি জোবায়দা
আজকাল : আপনার ক্যাম্পেইন কেমন চলছে?
মেরি:আমরা আশাবাদী। ভেরি পজিটিভ। আমাদের স্ট্রং গ্রাউন্ড রয়েছে। নেবর টু নেবর আমাদের কাজ চলছে। প্রতিদিন ১০টি টিম আমার জন্য বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন। গ্রেট টিম। প্রচুর পরিশ্রম। ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন। ভোটারদের সাথে আমার রয়েছে সরাসরি যোগাযোগ। ৩ যুগেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকার মানুষের সাথে রয়েছি। এবার প্রতিদান পাব ইনশাল্লাহ। আর আমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতো এ এলাকার মানুষ ছিলেন না। নতুন এসেছেন। আমার এলাকায় প্রচুর বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন। এবার সুযোগ এসেছে একজন বাংলাদেশি প্রতিনিধি আলবেনিতে পাঠানোর। বাংলাদেশিদের কথা বলার জন্য সেখানে একজন প্রতিনিধি সময়েরই প্রয়োজন। সিটি হলে বাংলাদেশি প্রতিনিধি রয়েছেন। আলবেনিতেও পাঠান। এ জন্য ভোটার হতে হবে। ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। মাত্র ৩ সপ্তাহ হাতে রয়েছে। ভোটের জন্য প্রস্তুত হোন।
আজকাল: আপনিতো দলীয় মনোনয়ন পান নি। ডিয়ানা মনোরো ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন। আপনি কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন? ব্যালটে আপনার নাম কোন দলে থাকবে?
মেরি: দল আমার জন্য এ নির্বাচনে প্রাধান্য নয়। ভোটারই আমার শক্তি। তারাই প্রাধান্য পাচ্ছেন। প্রতিদিন তাদের কাছে আমি ও আমার নির্বাচনী টিম যাচ্ছে। কারও দয়া দাক্ষিণ্য নির্ভর হয়ে নয়। জনতার সর্মথনই আমার ভরসা।
নির্বাচনী ব্যালটে নাম থাকতে হলে ১৫০০ জন ভোটারের সিগন্যাচার জমা দিতে হয়। গত বুধবারের মধ্যেই ১৫০০ এর বেশি পিটিশন স্বাক্ষর আমার নির্বাচনী টিম সংগ্রহ করেছে।আগামী শুক্রবারের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। তা ২৫০০ এর বেশি হয়ে যাবে। এতে ভোটারদের সাথেও সরাসরি যোগাযোগ হয়ে যাচ্ছে। এটি আমার জন্য একটি ইতিবাচক দিক। আর ব্যালটে আমার নাম থাকবে ‘পিপল ফার্স্ট’ পার্টি লাইনে।
আজকাল: আপনার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ডা কি জানতে পারি?
মেরি: হাউজিং এফোর্ডেবেলিটি। সবার জন্য আবাসনের নিশ্চয়তা। সাধ্যের মধ্যে বসবাসের অধিকার। বসবাসের পরিবেশও আমার এজেন্ডায় গুরুত্বপূর্ন। আমার নির্বাচনী এলাকায় এজমা রোগের আধ্যিকতা স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাবের কারনে। বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করবো।
আজকাল: আপনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ডিয়ানা মরোনো সম্পর্কে কিছু বলবেন?
মেরি:তার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। সে আমাদের ডিস্ট্রিক্টে নতুন এসেছেন। আমরা নির্বাচন করছি লোকাল ইস্যুতে। আমার নির্বাচনের ফোকাস লোকাল ইস্যু, লোকাল পিপল ও লোকাল মুভমেন্ট নির্ভর। আমি সেখানেই কনসেনট্রেশন দিতে চাই। কে এনডোর্স করলো , কে করলো না তা আমার কাছে প্রধান নয়। গ্রাসরুট ক্যাম্পেইনেই আমার প্রাধান্য।
আজকাল: ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন পলিসি ও আইসী তৎপরতা নিয়ে আপনার মতামত কি?
মেরিঃ ফেডারেল আইন নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে ইমিগ্রান্টরা আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদিন স্ট্রাগল করছেন। নির্বাচিত হলে তাদের অধিকার রক্ষায় আলবেনিতে লড়াই করবো। স্টেট লেভেলে যেন ইমিগ্রান্টরা ‘ওয়ার্ক পারমিট’ পান সেজন্য কাজ করবো। মনে রাখতে হবে, ইমিগ্র্যান্টরা আমাদের এসেট। বার্ডেন নয়। আমার এলাকা হবে ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলকামিং জোন।
আজকাল: আপনার ক্যাম্পেন ফান্ড সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
মেরি: নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমার এনাফ ফান্ড রয়েছে ইনশাল্লাহ। ৫০০ জনের কাছ থেকে ডোনেশন পেয়েছি। তা ৬৫ হাজার ডলারের উপরে। স্টেট ম্যাচিং ফান্ড পেলে দেড় লাখের উপর যাবে। তবে ম্যাচিং ফান্ড নির্বাচনের আগে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে। তবে টাকার জন্য আমার নির্বাচন আটকে থাকবে না। আমাদের জয় হবে ইনশাল্লাহ। সাপ্তাহিক আজকাল ও আপনাকে ধন্যবাদ।

ডিয়ানা
আজকাল:আপনার ক্যাম্পেইন কেমন চলছে?
ডিয়ানা: গ্রেট। খুব ভাল। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। কালো,সাদা ও ব্রাউন সকল মহলে আমার সর্মথন রয়েছে। সবচেয়ে খুশির খবর হচ্ছে গত সোমবার ৫ জানুয়ারি কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট -৩৬ এ প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে।ব্যালটে আমার নামই শুধূ ডেমোক্র্যাটিক লাইনে থাকবে। এই মনোনয়ন প্রদানে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান গ্রেগোরি মিক্স। এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আমাকে এনডোর্স করেছেন। এরচেয়ে আর বড় কি হতে পারে। এখন ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। আমার ডিস্ট্রিক্ট এর সন্মানিত ভোটাররা নিশ্চয়ই সুচিন্তিত মতামত আমাকে ও আমার দলের প্রতি দিবেন।
আজকাল: আপনি নির্বাচিত হলে এসেমব্লিওম্যান হিসেবে কোন কাজটিকে প্রাধান্য দিবেন?
ডিয়ানা:ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার। আমি নিজেও একজন মা। ১৬ মাসের বেবি রয়েছে আমার। আমাদের মতো মায়েদের চাইল্ড কেয়ারে সন্তানদের রেখে কাজে যেতে হয়। খরচ অত্যন্ত বয়বহুল। আমরা এফোর্ড করতে পারি না। কর্মজীবি মানুষদের জন্য চাইল্ড কেয়ার বেনিফিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এ ব্যাপারে আলবেনিতে আমি মুখ্য ভূমিকা রাখতে চাই। দ্বিতীয় এজেন্ডা হচ্ছে-ইমিগ্রান্টদের রক্ষা। আইসের আইন বর্হিভূত তৎপরতা নিউইয়র্কে চলতে দেয়া যায় না। তাদের মানবাধিকার লংঘনের যথেষ্ঠ প্রমাণ আছে। ‘নিউইয়র্ক ফর অল’ এমন একটি আইন পাশে এসেমব্লিতে যে বিল আছে তা পাশ করতে জোড়ালো ভূমিকা রাখবো। তৃতীয়ত. আমাদের ডিস্ট্রিক্টে ৮৪% মানুষ ভাড়ায় বসবাস করেন। তাদের অধিকার রক্ষায় আমি বড় যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছি ও করবো।
আজকাল: এ নির্বাচনে আরও ২ জন প্রার্থী আপনার প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশি বংশোদভূত মেরি জোবায়দাও একজন। প্রার্থী হিসেবেকে মেরিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ডিয়ানা:আমি মেরিকে পছন্দ করি। ডিস্ট্রিক্টের মানুষের কল্যাণে আমি তার সাথে কাজ করতে চাই। আমরা একই ভ্যাল্যু ক্যারি করি। যদিও আমি বাংলাদেশ থেকে আসিনি। তবে বাংলাদেশিদের মতো আমিও একজন ইমিগ্রান্ট। ইমিগ্রান্ট হিসেবে বাংলাদেশিদের মতো আমিও সকল বাধাবিপত্তি পেড়িয়ে এদেশের নাগরিক হয়েছি। মেরিও ইমিগ্রান্টদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। আমিও তাদের অধিকার রক্ষায় একজন সৈনিক। আমি একাধারে ডেমোক্র্যাট। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্ট অব আমেরিকার একজন কর্মি। কুইন্স ‘ডিএসএ’র কো চেয়ার হিসেবে কাজ করেছি। ডিএসএ আমাকে এনডোর্স করেছে।
আজকাল;আপনি নির্বাচিত হলে আপনার অফিসে বাংলাদেশি কোন স্টাফ নিয়োগ দিবেন কি?
ডিয়ানা: দেখুন, আমার ডিস্ট্রিক্টে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের প্রধান ভাষা বাংলা। তাদের সাথে আমার ও আমার টিমের সংযোগ স্থাপন জরুরী। আমি নির্বাচিত হলে একজন বাংলা ভাষাভাষি স্টাফ নিয়োগ দেব।
আজকাল: আপনার ক্যাম্পেন ফান্ড সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ডিয়ানা: ১৩০ জন ডোনারের কাছ থেকে প্রায় ৬২ হাজার ডলার পেয়েছি। স্টেট থেকে ম্যাচিং ফান্ড পাচ্ছি প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ডলার। সব মিলে আমাদের নির্বাচনী ফান্ড হচ্ছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ডলার।
আজকাল: সাপ্তাহিক আজকালের পক্ষ থেকে আপনার সময়ের জন্য ধন্যবাদ।
ডিয়ানা: সাপ্তাহিক আজকাল ও বাংলাদেশি কমিউনিটিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। ৩ ফেব্রুয়ারি সবাই ভোট কেন্দ্রে আসুন। যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিন। আপনার অধিকার রক্ষায় লড়াই করতে সহায়তা করুন।
