শনিবার   ০৩ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৯ ১৪৩২   ১৪ রজব ১৪৪৭

আমরা শোকাহত

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:২৪ এএম, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

 
 
বাংলাদেশের নেত্রী। জনগনের নেত্রী। আপোষহীন দেশনেত্রী। কত নামেই না তাকে বিশেষিত করা যায়। এমন নেত্রী কোথায় খুঁজে আমরা আর পাবো না। কিন্তু তিনি অমর হয়ে থাকবেন কোটি মানুষের অন্তরে। ভালোবাসায়। চেতনায়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে আদর্শিক নেত্রী হয়ে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের শারীরিক প্রস্থান কখনোই তাঁদের উপস্থিতিকে মুছে দিতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম-একটি সময়, একটি আদর্শ, একটি সংগ্রামের প্রতীক। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন, গণতন্ত্রের আপসহীন সৈনিক-তাঁর জীবন কেবল ক্ষমতার বৃত্তান্ত নয়; এটি অসীম ত্যাগ, সুকঠিন দৃঢ়তা ও জনগণের ভাগ্য বদলানোর জন্য অবিরাম লড়াইয়ের এক অনবদ্য মহাকাব্য। তাই তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইতিহাসের পাতায়, অগণিত মানুষের হৃদয়ে এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় তিনি অবিনশ্বর-চিরন্তন। আমরা দৃঢ়ভাবে আত্মার অন্তস্থল থেকে বিশ্বাস করি একজন কিংবদন্তি খালেদা জিয়ার মৃত্যু নেই।

তার আপসহীন চরিত্র এ দেশের আপামর জনতার হৃদয়ে স্থায়ী আসন দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাতে তাঁর লড়াই ছিল নিরবচ্ছিন্ন। কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত-সবার কণ্ঠস্বর তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তাঁর রাজনীতি ছিল কেবল ক্ষমতার হিসাব নয়; এটি ছিল মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
শেষ জীবনে তিনি যে বার্তা রেখে গেছেন-ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান-তা তাঁকে নতুনভাবে ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করেছে। দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দল-মত নির্বিশেষে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জাতীয় নেত্রী। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী হলেও আদর্শ অমর।

আজ বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই-এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে তিনি অমর। তাঁর আপসহীনতা, তাঁর নেতৃত্ব, তাঁর ত্যাগ-সবকিছু মিলিয়ে তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। গণতন্ত্রের যে মানদণ্ড তিনি স্থাপন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য এক অনিবার্য পাঠ হয়ে থাকবে। সাপ্তাহিক আজকাল পরিবার ও অগণিত পাঠকের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।