বৃহস্পতিবার   ০১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৭ ১৪৩২   ১২ রজব ১৪৪৭

হাতে নতুন কালশিটে, গুরুতর অসুস্থ ট্রাম্প?

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৫ এএম, ১ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

হোয়াইট হাউসে ফেরার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বড়দিন উপলক্ষে মার-আ-লাগো ক্লাবে সান্তা ট্র্যাকার ফোন কলে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্পের বাম হাতে নতুন কিছু দাগ ও কালশিটে দেখা যায়। যা নিয়ে এখন মার্কিন রাজনৈতিক ও চিকিৎসা মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

 

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের ডান হাতে আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদী কালশিটে ছিল। তবে বাম হাতের এই নতুন দাগ বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

 

এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ট্রাম্প ডানহাতি হওয়ার কারণে অতিরিক্ত করমর্দন এবং নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনের ফলে তার হাতে এমন দাগ হতে পারে। কিন্তু বাম হাতে একই ধরনের দাগ দেখা দেওয়ায় সেই ব্যাখ্যা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

 

যদিও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বয়সে হাতে এমন কালশিটে পড়া খুবই সাধারণ এবং এটি কোনো বড় শারীরিক সমস্যার লক্ষণ নাও হতে পারে। তবুও হোয়াইট হাউসের তথ্য গোপন করার প্রবণতা জনমনে সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক ড. জেফরি লিন্ডার মনে করেন, ট্রাম্প নিজের যে শক্তিশালী এবং প্রাণবন্ত ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চান, এই ছোটখাটো শারীরিক পরিবর্তনগুলো তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 

গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় জো বাইডেনের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আক্রমণ করে ফায়দা লুটেছিলেন ট্রাম্প। এখন সেই একই বয়সের ভার ও স্বাস্থ্য নিয়ে তাকেও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত জুলাই মাসে ট্রাম্পের পায়ে ফোলা ভাব দেখে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তিনি ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি নামক বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তবে তার বাম হাতের নতুন কালশিটে নিয়ে বর্তমানে হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে ট্রাম্পের জনসম্পৃক্ততা ও অধিক করমর্দনের কথা বললেও চিকিৎসকরা বলছেন, বাম হাতে এমন দাগের পেছনে পড়ে যাওয়া বা কোথাও আঘাত পাওয়ার মতো কারণ থাকতে পারে।

 

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির কার্ডিওলজিস্ট ড. জোনাথন রেইনার জানান, ট্রাম্পের এই অবস্থা সম্ভবত অ্যাসপিরিন বা কোনো রক্ত পাতলা করার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আসলে কী কী ওষুধ সেবন করছেন বা তার আসল শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিয়ে লুকোচুরি করাতেই বিতর্ক বাড়ছে। গত অক্টোবর মাসে হঠাৎ করে ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে ট্রাম্পের এমআরআই করানো এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকে তার তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসার পর এই নতুন কালশিটে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বয়সের তুলনায় নিজেকে অতিমাত্রায় সতেজ প্রমাণ করার যে চেষ্টা ট্রাম্প করেন, তা সামান্যতম শারীরিক দুর্বলতাকেও এখন বড় ইস্যু করে তুলছে।